মহাজনের বিরুদ্ধে টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

245

আসানসোল: পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল রানিগঞ্জ কয়লাখনি এলাকায় সুদখোর বা মহাজনদের দৌরাত্ব নতুন কোনও ঘটনা নয়। এবার এক সুদখোর ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ইসিএলের এক কর্মীর কাছ থেকে বোনাসের টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ওই সুদখোরদের হুমকির ভয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ইসিএল কর্মী।

মৃতের পরিবার সূত্রে খবর, গত ২২ অক্টোবর ষষ্ঠীর দিন আসানসোল দক্ষিণ থানার ইসিএলের সোদপুর এরিয়ার ধেমোমেনের বরাচক কলোনির ইসিএল কর্মী শঙ্কর হাড়ি(৪৬) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃত শংকর হাড়ি ইসিএলের বরাচক এরিয়া অফিসে সুইপার পদে কাজ করতেন। এই ঘটনার সাতদিন পরে ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে মৃত শংকর হাড়ির স্ত্রী আরতি হাড়ি আসানসোল দক্ষিণ থানায় মহাজন বা সুদখোর শ্মশান নুনিয়া ও তার ছেলে রাহুল নুনিয়ার নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত দু’জনের বাড়ি আসানসোলের ধেমোমেন সিপি ধাওয়া এলাকায়। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দু’জনকে পুলিশ ধরতে পারেনি। পুলিশ জানায়, অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তরা ফেরার রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

- Advertisement -

আরতি হাড়ি বলেন, স্বামী শংকর হাড়ি ইসিএলের বরাচক এরিয়া অফিসে সুইপার পদে চাকরি করেন৷ ২০০৯ সালে স্বামী নিজের বোনের বিয়ের জন্য এলাকায় সুদখোর বা মানিলন্ডার বলে পরিচিত শ্মশান নুনিয়ার কাছ থেকে সুদে ২ লক্ষ টাকা নেয়। সেই সময় শ্মশান নুনিয়া আমার স্বামীর কাছ থেকে ব্যাঙ্কের পাশ বই (স্যালারি একাউন্ট), প্যান কার্ড, ইসিএলের পরিচয় পত্র সহ চাকরি সংক্রান্ত সব কিছু কেড়ে নিয়েছিল। তারপর থেকে প্রতিমাসে বেতন ব্যাঙ্ক থেকে তোলার পরে সুদ হিসাবে সব টাকা ওই সুদখোর নিয়ে নিত। স্বামীর হাতে মাত্র কয়েক হাজার টাকা দিত। গত ২২ অক্টোবর স্বামী পুজোর বোনাস হিসাবে ৬৮,৫০০ টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তোলেন৷ সেই টাকা শ্মশান নুনিয়ার ছেলে রাহুল নুনিয়া জোর কেড়ে নেয়। আমি সেই কথা জানার পরে শ্মশান নুনিয়াকে ফোন করি। সে আমাকে সুদে টাকা নেওয়ার কথা বলে। এরপর আমার স্বামী ও ছেলে শ্মশানের বাড়িতে গেলে ৬৮, ৫০০ টাকার মধ্যে মাত্র ২৮ হাজার টাকা দেয়।এরপর বাড়ি ফিরে স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

আরতি হাড়ি আরও বলেন, আমি ভয় পেয়ে গেছিলাম। প্রতিবেশীরা আমার পাশে দাঁড়ানোয় আমি ঘটনার সাতদিন পরে বৃহস্পতিবার গোটা ঘটনার কথা লিখিত ভাবে পুলিশকে জানিয়েছি। তার দাবি, আমার স্বামী ওই সুদখোর ও তার ছেলের হুমকিতে ভয় পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। দু’জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কড়া শাস্তি দিক।