লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ডাক বিভাগের কর্মীর বিরুদ্ধে

191

বর্ধমান: পাঁচ বছর আত্মগোপন করে থেকেও গ্রেপ্তারির হাত থেকে রেহাই পেলেন না গ্রাহকদের বহু লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত ভারতীয় ডাক বিভাগের এক কর্মী। ধৃতের নাম সৌমেন চক্রবর্তী ওরফে সুমন। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ভাটাকুল গ্রামে তাঁর বাড়ি। বৃহস্পতিবার লুকিয়ে চুরিয়ে সে বাড়িতে ফেরে। গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে ওই রাতেই ভাতারের বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। সিজেএম মনিকা চট্টোপাধ্যায় (সাহা) ধৃতকে বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে শনিবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ভাতার থানার পালার সাব পোস্ট অফিসের কর্মী ছিলেন সৌমেন চক্রবর্তী। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন তাঁদের সেভিংস ও রেকারিং অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েনি। এনিয়ে তাঁরা পোস্ট অফিসে বিক্ষোভ দেখান। এর কয়েকদিন পরেই অফিস তালাবন্ধ করেদিয়ে সৌমেন গা-ঢাকা দেন। ভাতার পোস্ট অফিসের ইনসপেক্টর অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বছরের ২০ আগস্ট আরও কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে পালার সাব পোস্ট অফিসে যান। সেই সময় বেশ কয়েকজন গ্রাহকও সেখানে হাজির হন। তাঁদের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ইনসপেক্টর অফিসের ভিতরে ঢোকেন। তাঁরা প্রাথমিকভাবে দেখে, বেশ কয়েকজন গ্রাহকের সেভিংস ও রেকারিং পাশ বইয়ে জমা পড়া টাকার পরিমাণ এন্ট্রি করা থাকলেও ডাকঘরের নথিতে তার উল্লেখ ছিল না। ১৭ হাজার ৮১৫ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রথমে সামনে আসে। পরে ডাকঘরের অভ্যন্তরীণ তদন্তে সামনে আসে সৌমেন ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৪৫ টাকা আত্মসাত করেছে। ঘটনার কথা জানিয়ে ইনসপেক্টর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

- Advertisement -

দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সরকারি অর্থ আত্মসাতের ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। ডাকঘর থেকে বেশকিছু নথিও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশি তদন্তেও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্ত সম্পূর্ণ করে পুলিশ অভিযুক্তকে পলাতক দেখিয়ে ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট পেশ করে। সৌমেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা জারি হয়। তাকে ধরতে তাঁর বাড়ি ও কাটোয়া থানার জামারে শ্বশুর বাড়িতেও বেশ কয়েকবার পুলিশ হানা দেয়। কোথাও সৌমেনের হদিশ না পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ হুলিয়া জারির আবেদন করে করে আদালত। সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত।