পরিত্যক্ত খনির জমিতে থাকা পুকুর ভরাটের অভিযোগে বিক্ষোভ

101

আসানসোল: পরিত্যক্ত একটি পুকুর ভরাট করে তা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠল জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্য়ে আসতেই বুধবার রাতে স্থানীয়রা মাফিয়াদের কাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় পৌঁছোয়। যদিও তার আগেই মাফিয়ারা পালিয়ে যায় বলেই খবর। ঘটনাটি আসানসোলের রানিগঞ্জ শহরের শিশু বাগান এলাকার।

রাতের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শিশু বাগান এলাকায় ওই পৌঁছে পুকুর ভরাটের বিরোধিতা করে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি, আসানসোল পুরনিগম ও রানিগঞ্জ থানায় চিঠি দিয়ে অবিলম্বে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করার দাবি জানান তাঁরা।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তথা সমাজকর্মী গোপাল আচার্য বলেন, ‘কোম্পানির আমলে এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ খনি ছিল। পরে সেখান থেকে কয়লা তোলা বন্ধ হয়ে যায়। রানিগঞ্জ শহরের ৩৩, ৩৪, ৩৬ ও ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ব্যবহার করা সমস্ত জল নর্দমা দিয়ে সেখানে গিয়ে জমত। আস্তে আস্তে পরিত্যক্ত খনির প্রায় ৩০ বিঘা জমি একটি বড় পুকুরের আকার নেয়। এখনও শহরের নোংরা জল, বর্ষার জল সব সেখানেই জমা হয়। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় অবৈধভাবে কয়লা খনি করার চেষ্টা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্দোলনে তা বন্ধ হয়ে যায়। গত কয়েকদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করেছিলাম রাতের অন্ধকারে ওই পুকুর ভরাটের চেষ্টা শুরু হয়েছে। বুধবার রাতেও ফ্লাই অ্যাশ দিয়ে পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা হচ্ছিল। সেই খবর পেয়ে আমরা সেখানে পৌঁছাই। এদিন সকালে আমরা আসানসোল পুরনিগমকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দিয়েছি।’

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে পুকুর থেকে ফ্লাই অ্যাশ তুলে ফেলতে হবে। কেননা পুকুরটি ভরাট হয়ে গেলে রানিগঞ্জ শহরের চারটি ওয়ার্ডের জল বেরোনোর জায়গা থাকবেনা। বলতে গেলে গোটা শহরটা জলের তলায় ডুবে থাকবে। এই জমি মাফিয়ারা ওই পুকুরের কাছাকাছি ৭৬ শতক জমি কিনে বাকিটা ভরাট করে প্লট হিসেবে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েছে। জমির মালিকানা ছিল ইসিএলের। হয়তো মিউট্রেশন হয়নি। তা এখন অন্যায়ভাবে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।

রানিগঞ্জ নাগরিক সমিতির সদস্য তথা রানিগঞ্জ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান গৌতম ঘটক বলেন, ‘এলাকার মানুষেরা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তীব্র প্রতিবাদ করছি। রানিগঞ্জের মত শহরে একের পর এক পুকুর ভরাট যে হচ্ছে তার বিরুদ্ধে আমরা সবাই। আমরা চাই মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রশাসনকে বাধ্য করুক পুকুর ভরাট না করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।’

অন্যদিকে, আসানসোল পুরনিগমের রানিগঞ্জ অফিসের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অভিযোগ আকারে পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

এদিকে, রানিগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে বুধবার রাতেই পুলিশ গিয়েছিল। তখন পুকুর ভরাটের কাজ করা জমি মাফিয়ারা পালিয়ে যায়। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।