রেলে চাকরির নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই

546

সোনাপুর: রেলে চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। দুই অভিযুক্তের নাম সুজিত রায় ও শ্যামল দাস। তাদের বাড়ি কোচবিহার জেলায়। প্রথম জনের বাড়ি চকচকা চেকপোস্ট এলাকায় এবং দ্বিতীয়জনের ডাউয়াগুড়িতে। শনিবার রাতে স্থানীয়দের চেষ্টায় আলিপুরদুয়ারের তপসিখাতার বসটারি এলাকা থেকে ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনায় তপসিখাতায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোনাপুর ফাঁড়ির ওসি তাপস হোড় বলেন, ‘দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর, তপসিখাতার বসটারির বাসিন্দা স্বপনকুমার রায়ের সঙ্গে গত মার্চ মাসে অভিযুক্তদের পরিচয় হয়। লকডাউন চলাকালীন তারা তপসিখাতা এলাকায় মানি মার্কেটিং কোম্পানির নাম করে ব্যবসার চেষ্টা চালায়। এজন্য স্বপনকুমার রায়কে তারা ব্যবহার করে। পাঁচ হাজার টাকা দিলে তিন মাসে তা ডবল হবে, এই টোপ দিয়ে ব্যবসা শুরু হয়। স্বপনবাবু নিজে পাঁচ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে প্রতারকরা টোপ দেয়, পাঁচ লক্ষ টাকা দিলে তারা স্বপনবাবুকে রেলের চাকরি পাইয়ে দেবে। স্বপনবাবুর বাড়িতে শিক্ষিত ছেলে আছে। পুত্রের চাকরির আশায় তিনি প্রায় আড়াই মাস আগে প্রতারকদের ফের নগদে পাঁচ লক্ষ টাকা দেন। কিন্তু এতদিনেও ছেলের চাকরি না হওয়ায় তাঁর সন্দেহ হয়। তিনি বারবার টাকা চাওয়ায় প্রতারকরা সম্প্রতি জানায়, আরও কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী জোগার করে দিতে পারলে ওই টাকা তারা ফেরৎ দেবে। এদিকে, স্বপনবাবু পরিকল্পনা করে শনিবার এলাকার চারজন চাকরিপ্রার্থী জোগাড় করে দুই প্রতারককে বাড়িতে ডেকে নেন। নতুন চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতারকরা ৫০ হাজার করে টাকা দাবি করে। পরিস্থিতি বুঝে স্বপনবাবু সোনাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পুলিশ শনিবার রাতে দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে।

- Advertisement -

স্বপন কুমার রায় বলেন, ‘আমি যে প্রতারিত হয়েছি তা পরে বুঝতে পেরেছি। তাই পরিকল্পনা করে দুই প্রতারককে বাড়িতে ডেকে নিই। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। প্রতারকদের কঠোর শাস্তির পাশাপাশি আমার টাকা ফেরত চাই।’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।