চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ

231

বর্ধমান: সেনা বাহিনীতে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক প্রাতারণার বিচার চেয়ে বর্ধমান আদালতের দ্বারস্থ হলেন এক যুবক। পূর্ব বর্ধমানের রায়নার পশ্চিমপাড়ার ওই যুবকের নাম আলমগীর শেখ। বুধবার তিনি বর্ধমান আদালতে মামলা রুজু করেছেন। রায়না থানার ওসিকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সিজেএম সুজিত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ জানিয়েছে, আদালত নির্দেশ দিলে তা খতিয়ে দেখে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদালতে আলমগীর জানিয়েছেন, তিনি বেশিদূর পড়াশুনা না করায় চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে দিনমজুরের কাজ করেন। সেই কাজ করে যেটুকু আয় হয় তা দিয়েই তিনি সংসার চালান। কালনা থানার শাঁখাটি গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। একদিন নিজের পারিবারিক সমস্যার কথা তিনি ওই ব্যক্তিকে জানিয়ে ছিলেন। তা শুনে ওই ব্যক্তি তার দাদার মাধ্যমে তাঁকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চাকরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। ওই ব্যক্তি তাঁকে জানিয়েছিল, তার দাদা সেনাবাহিনীর বড় অফিসার। অল্প শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও সেনা বাহিনীতে কীভাবে চাকরি হবে তা নিয়ে যুবক ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চান। তখন ওই ব্যক্তি তাঁকে বলে সেনা বাহিনীতে ঝাড়ুদার সহ নানা পদ রয়েছে। সেইসব পদে চাকরি পাওয়া সম্ভব বলে ওই ব্যক্তি আলমগীরকে আশ্বাস দেন। চাকরি পেতে হলে ৪ লক্ষ টাকা দিতে হবে বলেও ওই ব্যক্তি তাঁকে জানায়। একই সঙ্গে বলে চাকরি পাওয়ার জন্য ৩ লক্ষ টাকা অগ্রিম দিতে হবে। চাকরি পাওয়ার আশায় তিনি তাঁর মায়ের সোনার গয়না বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে ৩ লক্ষ টাকা ওই ব্যক্তিকে দিয়ে দেন। তার পরেই তাঁর কাছ থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজ ও ফর্মে সই করিয়ে নেয় ওই ব্যক্তি। এরপর বহুদিন কেটে গেলেও তাঁর চাকরি আর হয়নি। টাকা ফেরত চাইলে ওই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা শুরু করে। এমনকী খুনের হুমকি দেওয়া হয়।

- Advertisement -

আলমগীরের বক্তব্য, তিনি প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে রায়না থানায় গিয়েছিলেন। পুলিশ সুপারকেও লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সুরাহা না হওয়ায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আলমগীর চায়ছেন প্রতারকের শাস্তি হোক।

রায়না থানার এক অফিসার বলেন, এই ধরণের অভিযোগ জানাতে কেউ থানায় এসেছিলেন বলে জানা নেই। অভিযোগ জানাতে এলে তা অবশ্যই নেওয়া হত। চলতি বছরেই এমন একাধিক প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনমাফিক ব্যবস্থা নিয়েছে রায়না থানা।