কিশোরীর ময়নাতদন্ত ঘিরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে নিগ্রহের অভিযোগ  

32

রায়গঞ্জ: করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীকে ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। মঙ্গলবার জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট উপসর্গ নিয়ে এক কিশোরীকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম কৃষ্ণা খাতুন(১৬)। করণদিঘি রসাখোয়ার বাসিন্দা। স্থানীয় হাইস্কুলের মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী।চিকিৎসকেরা দেহ ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু মৃতার পরিবারের লোকেরা ময়নাতদন্তের আপত্তি জানান এবং জরুরি বিভাগের নার্স এবং চিকিৎসকদের চরম হেনস্তা করেন। ঘটনাস্থলে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চিকিৎসক এবং নার্সদের ওপর হামলার ঘটনায় রীতিমত ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্মী এবং চিকিৎসকেরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক ধরে ওই কিশোরী জ্বরে ভুগছিলেন। এরপর শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাকে রসাখোয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অবস্থা ক্রমশ অবনতি হলে তাকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। এরপর রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসলে ওই কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করার পর মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপরই কর্তব্যরত চিকিৎসক করোনা টেস্ট এবং দেহ ময়নাতদন্ত করার কথা বলেন। কিন্তু তাঁরা দেহ ময়নাতদন্ত করাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং চিকিৎসক নার্সদের নিগ্রহ করেন।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় বলেন, ‘ওই কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্ত হবে। লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পরেই যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসক এবং নার্সের সঙ্গে অভব্য আচরণ করার জন্য রায়গঞ্জ থানায় মৃতার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।’

মৃতার বাবা জামশেদ আলম বলেন, ‘আমরা ময়নাতদন্ত করাবো না। কিন্তু চিকিৎসক জোর করে ময়নাতদন্ত সহ অন্যান্য পরীক্ষা করবে বলে আমাদের জানান। এতে আমাদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সের বাকবিতণ্ডা হয়। আমরা কারও গায়ে হাত দেইনি চিকিৎসক ও নার্স মিথ্যে অভিযোগ করছে।’ রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।’