শ্রমিক মেলায় নেতাজিকে অবমাননার অভিযোগ

166

রামপুরহাট: নেতাজির ১২৫তম জন্মদিনে তোড়জোড় সর্বত্র। ধূমধাম করে পালিত হল এই দিনটি। এরই মাঝে দেশনায়ক নেতাজিকে অবমাননার অভিযোগ উঠল রামপুরহাট শ্রমিক মেলায়। অভিযোগ, শ্রমিক মেলার অনুষ্ঠান মঞ্চে তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা থাকলেও নেতাজির প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে মঞ্চের নীচে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দুঃখ প্রকাশ করেন মঞ্চে উপস্থিত খোদ কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কথায়, ‘এটা ঠিক হয়নি।‘ অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে নিন্দার ঝড় উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

শনিবার রামপুরহাট পুরসভার মাঠে শ্রমিক মেলার উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি নন্দেশ্বর মণ্ডল, রামপুরহাট-২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সাহারা মণ্ডল, তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি সৈয়দ সিরাজ জিম্মি। অভিযোগ, মঞ্চে যখন নেতা-মন্ত্রী এবং শ্রম দপ্তরের আধিকারিকেরা তখন মঞ্চের নীচে দেশনায়ক নেতাজির প্রতিকৃতি। অনুষ্ঠান শেষে এবিষয়ে কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। এটা ঠিক হয়নি। নেতাজির প্রতিকৃতি মঞ্চের উপর রাখলেই ভাল হত। নেতাজির প্রতিকৃতি মঞ্চের উপর তুলে রাখার জন্য আমি আধিকারিকদের বলেছি।‘

- Advertisement -

জেলা উপ-শ্রম আধিকারিক সন্দীপ নন্দী বলেন, ‘করোনা বিধি মেনে অনুষ্ঠান করা হয়েছে। নেতাজির প্রতিকৃতি মঞ্চে থাকলে ফুল দিতে অসুবিধা হত। তাই মঞ্চের নীচে আলাদা করে রাখা হয়েছে। তাতে অতিথিদের মালা দিতে সুবিধা হয়েছে।‘

অন্যদিকে, শ্রমিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে ধরে মেলা মাঠেই বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। তাঁদের দাবি, শ্রম দপ্তর শ্রমিক স্বার্থে কোন কাজ করে না। অহেতুক অর্থ ব্যয় করে মেলা করা হচ্ছে। এবিষয়ে সিপিএম নেতা মতিউর রহমান বলেন, ‘বাম আমলে শ্রমিক কল্যাণে ৬১টি সামাজিক প্রকল্প ছিল। বর্তমানে ওই সমস্ত সামাজিক প্রকল্প এক জায়গায় নিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে নির্মাণ কল্যাণ তহবিলের ১৬২০ কোটি টাকা ট্রেজারি ফান্ডে নিয়ে এসেছে রাজ্য সরকার। আমাদের দাবি ওই টাকা রাজ্য সরকারকে সুদ সমেত শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে ফেরত দিতে হবে। রাজ্য সরকার সমস্ত প্রকল্পকে এক জায়গায় নিয়ে এসে শ্রমিকদের বঞ্চিত করছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।‘