চাঁচলে পরিযায়ী শ্রমিকদের র‍্যাশনের কুপন বিলিতে অনিয়মের অভিযোগ

312

সামসী: সোমবার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভের জেরে কুপন বিলি বন্ধ করে দিয়েছিল প্রশাসন। মঙ্গলবার একই অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াল চাঁচল-১ ব্লকের মতিহারপুরে। তালিকায় নাম না থাকার অভিযোগে এদিন চাঁচলের মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকদের একাংশ। যার জেরে কুপন বিলি শুরু হলেও মাঝপথে বিলি বন্ধ করে দিতে হয়। প্রকৃত শ্রমিকদের নাম তালিকায় না থাকায় প্রশাসনকেই দায়ি করেছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের মাসে ৩০ কিলোগ্রাম চাল ও দুই কিলোগ্রাম ছোলা দেওয়ার কথা। সেজন্য গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কুপন বিলি শুরু হয়েছে। কিন্তু তালিকায় প্রকৃতরা অর্থাৎ পরিযায়ী শ্রমিকদের বদলে অনেক ধনী, ব্যবসায়ী, নেতা থেকে রেলকর্মীরও নাম তালিকায় রয়েছে বলে সোমবার ভালুকায় ক্ষোভ ছড়ায়। আজও একইভাবে চাঁচলের মতিহারপুরে কুপন বিলি শুরু হওয়ার পর তালিকায় অনেকের নাম না থাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়।

- Advertisement -

পরিযায়ী শ্রমিকদের অভিযোগ, মতিহারপুর পঞ্চায়েত এলাকার ভিন রাজ্য ফেরত অনেক পরিযায়ী শ্রমিকের নাম নেই। উল্টে যারা পরিযায়ী শ্রমিক নন তাঁদের অনেকেরই নাম তালিকায় রয়েছে।

মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এলাকায় ১৩টি কোয়ারান্টিন সেন্টারে যারা ছিলেন তাদের নামের তালিকা চাঁচল-১ বিডিও ও চাঁচল থানার পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও অনেকের নাম তালিকায় ওঠেনি। বরং যারা পরিযায়ী নন তাদের নাম তালিকায় কীভাবে আসল তা পঞ্চায়েত প্রশাসনের জানা নেই।

মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পিঙ্কি খাতুন বলেন, ‘আমরা যে তালিকা পাঠিয়েছিলাম তা কার্য়করী হয়নি। আমরা চাই প্রকৃত পরিযায়ী শ্রমিকরা র‍্যাশন পাক। কুপন বিলি শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসতেই গণ্ডগোল শুরু হয়। যার জেরে কুপন দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি বিডিওকে জানানো হয়েছে।’

এই বিষয়ে চাঁচল-১ বিডিও সমীরণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা জেলা থেকে যা কুপন পেয়েছি তাই বিলি করা হচ্ছে। তারপরও কোনও পরিযায়ী শ্রমিক কুপন না পেলে তা আমরা জেলা প্রশাসনকে জানাব।’ তিনি এও বলেন, ‘কুপনহীন কোনও পরিযায়ী শ্রমিকের যদি খাদ্যশস্যের প্রয়োজন পড়ে তা পঞ্চায়েতের নিকট আবেদন করলে ব্লক প্রশাসন তা খতিয়ে দেখবে।’