ছেলেকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা

190

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ছেলেকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হল বাবা। ধৃতের নাম রবি রায়। চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমান থানার রায়ানের নারায়নদিঘি এলাকায়। ছেলে তারক রায় (২৩)কে খুন করে গা ঢাকা দিয়ে থাকা বাবা রবি রায়কে বর্ধমান থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে মেমারির বাগিলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে মৃতর পরিবার।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার রায়ানের নারানদিঘির বাড়িতেই খুন হয় যুবক তারক রায়। ওই দিন দুপুরে বাড়ির বারান্দায় থাকা তক্তার উপরে পড়ে থাকে যুবকের রক্তাত মৃতদেহ। খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। যুবকের মুখমণ্ডলে আঘাতের ক্ষত দেখে তদন্তকারী পুলিশ কর্তাদের একপ্রকার নিশ্চিৎ হন ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা যুবকের উপর ধারালো ও ভারি কিছু দিয়ে আঘাত হানা হয়েছিল।

- Advertisement -

ওই ঘটনার পর থেকেই যুবকের বাবা রবি রায় গা ঢাকা দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের সবাই বুঝতে পারেন নিজের ছোটছেলে তারক কে তাঁর বাবা রবি রায় খুন করে পালিয়ে গিয়েছে।পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্তে নেমে হন্যে হয়ে রবি রায়ের খোঁজ চালানো শুরু করে।

তদন্তে নেমে পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ কর্তারা রবি রায়ের কীর্তিকলাপ জানতে পারেন।পরিবার সদস্যরা পুলিশকে জানায় রবি রায় পেশায় হকার। তাঁর দুই ছেলে ধনঞ্জয় ও তারক। ছোট ছেলে তারক সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতো। ধনঞ্জয় জানায়, তাঁর বাবা রবি রায় দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে তাঁদের মা ছবি রায়ের সঙ্গে অশান্তি করতো।এমনকি বাবা তাঁদের মাকে মারধোরও করতো।

ধনঞ্জয়ের অভিযোগ এই ঘটনা মেনে নিতে না পেরে বারে বারেই প্রতিবাদ করতো তাঁর ছোটো ভাই তারক। গত মঙ্গলবার রাতেও তাঁদের বাবা ও মায়ের মধ্যে অশান্তি চরমে উঠলে রেগে গিয়ে তারক বাবাকে চড় মেরে বসে। মৃতর মা ছবিদেবী বলেন, মঙ্গলবার রাতের সেই ঘটনার বদলা নিতেই তাঁর স্বামী রবি রায় ছোট ছেলে তারককে খুন করে গা ঢাকা দিয়েছে।’ যদিও বৃহস্পতিবার রাতেই গা ঢাকা দিয়ে থাকা রবি রায়কে পুলিশ ধরতে সক্ষম হয়।

এদিন ধৃতকে পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। খুনের মোটিভ উদ্ধারের জন্য তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে ৫ দিন পুলিশ হেপাজতে নেবার জন্য আদালতে আবেদন জানায়। সিজেএম রতন কুমার গুপ্তা ধৃতকে পাঁচ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।