পলাশবাড়িতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাইস্কুলের জমি দখলের অভিযোগ

339

সুভাষ বর্মন, পলাশবাড়ি: আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পলাশবাড়িতে শিলবাড়িহাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি শিলবাড়িহাট হাইস্কুলের জমিও দখলের অভিযোগ উঠল। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

জানা গিয়েছে, দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি দখলমুক্ত করার জন্য এবার বড়সড় আন্দোলন শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিতে বেশকয়েকটি বাড়ি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে সরকারিভাবে জমির পাট্টাও দেওয়া হয়। এদিকে স্কুলের রেকর্ডভুক্ত জমিও দখল হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি পুনর্দখলের জন্য শিলবাড়িহাট হাইস্কুলে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গঠিত হয়েছে শিলবাড়িহাট স্বাস্থ্য শিক্ষা উন্নয়ন কমিটি। কমিটিতে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার ক্লাবের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এই কমিটি শীঘ্রই এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পাশেই অবস্থিত শিলবাড়িহাট হাইস্কুল ও শিলবাড়িহাট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিতে কলোনিপাড়ার নাম উল্লেখ করে সাইনবোর্ড লাগানোয় গতকাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। তবে বাধ্য হয়ে পরে ওই সাইনবোর্ড খুলে দেন স্থানীয়রা। এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আরও কিছু জমি দখল হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। কীভাবে এই জমি পুনর্দখল করা যায় সেই পদক্ষেপের জন্য এদিন সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেয় স্থানীয় রোগী কল্যাণ সমিতি। এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি স্কুলের জমিও দখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। তাই বৈঠকে স্কুলের জমির প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

- Advertisement -

শিলবাড়িহাট হাইস্কুলে আয়োজিত বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি অঞ্চল সভাপতি নিরঞ্জন রায় বলেন, ‘কয়েক বছর আগে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রাচীর তৈরি করতে গিয়ে জমি দখলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিতেই পাড়ার নামে সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে। স্কুলের জমিও দখল হচ্ছে।’ স্থানীয় রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ দত্তের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমিতে কিছু বাড়ি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ওই সাইনবোর্ড লাগানোর ঘটনায় মেডিকেল অফিসার ডাঃ ঋত্বিক দাস মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।’ তাই তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রক্ষার জন্য সবাইকে একত্রিত হওয়ার আবেদন জানান।

বিজেপির দলীয় পর্যবেক্ষ জগদীশ অধিকারী বলেন, ‘এই জমি রক্ষা করতে না পারলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অস্তিত্ব থাকবে না।’ সিপিএমের প্রতিনিধি গুরুদেব বর্মন বলেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্কুলের সম্পদ রক্ষা করতে হবে।’

স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি নিখিল পোদ্দার কীভাবে স্কুলের জমি দখল হচ্ছে তা নথিপত্রের মাধ্যমে তুলে ধরেন। তারপর গঠিত হয় শিলবাড়িহাট স্বাস্থ্য শিক্ষা উন্নয়ন কমিটি। এদিনের বৈঠকে বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। তাঁরাও আন্দোলনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানান। কমিটির কনভেনার তরণি রায় বলেন, ‘দুই সরকারি প্রতিষ্টানের জমি সুরক্ষার জন্য এই কমিটি কাজ করবে। আমরা এজন্য শীঘ্রই প্রশাসনের দ্বারস্থ হব’।

তবে স্থানীয় একাংশের দাবি, কেউ কোথাও জমি দখল করেননি৷ তাঁরা পাট্টাও বৈধভাবে পেয়েছেন। শিলবাড়িহাট হসপিতাল কলোনি পাড়া কমিটির সম্পাদক বিনয় মজুমদার বলেন, ‘২০০৬ সাল থেকে পাট্টার জন্য আন্দোলন শুরু হয়। সরকারিভাবে দু’বার সমীক্ষার পর সম্প্রতি এই পাড়ার ১৬ জন বৈধ নথির ভিত্তিতে পাট্টা পেয়েছেন। কেউ কোনও জমি দখল করেননি।’ এই বিষয়ে পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সরোদিনি বর্মন বলেন, ‘দুই প্রতিষ্ঠানেই জমি সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রশাসনের উপরমহলে জানানো হবে।’