সেচ দপ্তরের জমি দখলের অভিযোগ

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : তোর্ষা নদীসংলগ্ন সেচ দপ্তরের জমি দখল করে বসতবাড়ি থেকে শুরু করে দোকানঘর তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। কোচবিহার-১ ব্লকের গুড়িয়াহাটি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিণচওড়া বাণীনিকেতন স্কুলসংলগ্ন এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এই অবৈধ নির্মাণের কথা জেনেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ। এলাকাবাসী থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই জমি দখলের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেচ দপ্তর জমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।

হরিণচওড়া থেকে খাগড়াবাড়িগামী বাঁধের রাস্তার ডানদিকে শহর থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে তোর্ষা নদীর গা-ঘেঁষে জমি দখলের এই অবৈধ প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে একাধিক স্থায়ী বাড়ি ও একটি দোকান তৈরির কাজ প্রায় শেষ। জমি দখলের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠছে। সরকারি সম্পদ বেদখল হওয়ার পাশাপাশি তোর্ষা বাঁধের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় বাসিন্দা মৃণাল মহন্ত বলেন, সেচ দপ্তরের জমি দখল করে স্থায়ী নির্মাণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে অদূর ভবিষ্যতে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিস্তীর্ণ এলাকাবাসী বিপাকে পড়বেন। এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা জমি দখলের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তথা স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামলকুমার দে এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাদের মদতেই দীর্ঘদিন যাবৎ এ ধরনের অবৈধ কাজ হচ্ছে। সরকারি জমি দখল রুখতে প্রশাসন পদক্ষেপ না করলে আন্দোলনে নামব।

- Advertisement -

অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য মকসেদুল হক বলেন, ওখানে দুটি পরিবার সরকারি জমি দখল করে বাড়ি করেছে। তারা এ বিষয়ে আমার কাছে অনুমতি নিতে এসেছিল। আমি তাদের বলেছি, এই বেআইনি কাজের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে জমি দখলের বিষয়টি গোচরে থাকলেও মকসেদুল সাহেব তা প্রশাসনের নজরে আনেননি বলে স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে সেচ দপ্তরের কোচবিহার ডিভিশনের নির্বাহী বাস্তুকার শুভজিৎ মণ্ডল বলেন, এ বিষয়ে পদক্ষেপের জন্য অতিশীঘ্র সদর মহকুমা শাসকের সঙ্গে কথা বলব। সরকারি জমি দখল রেয়াত করা হবে না।