যুবকের মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ, বিক্ষোভ

514

রামপুরহাট: চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে উত্তেজনা ছড়াল রামপুরহাটে। বৃহস্পতিবার প্রতিবাদে পরিবারের লোকজন মৃতদেহ নার্সিংহোমের সামনে নামিয়ে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বভাবিক হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে খবর, মৃত যুবকের নাম প্রসেনজিৎ দাস(২৬)। তার বাড়ি রামপুরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালিসাড়া পাড়ায়। মৃত যুবকের বাবা জটাই দাস জানান, চলতি বছরের জুন মাসে ছেলের গলব্লাডারে স্টোন ধরা পড়ে। চিকিৎসক অভিষেক ঘোষের তত্ত্বাবধানে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল। সেই চিকিৎসক অভিষেক ঘোষের পরামর্শে হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর করিয়ে সিউড়ির তৃণমূল বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়ের রামপুরহাটের নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়।এরপর ৪ জুন যুবকের অস্ত্রপচার হয়। ভুল অস্ত্রপচারের ফলে তার শরীরে পচন শুরু হয়। পেট ফুলে যায়। দিন পনেরো পর ফের একই নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। দ্বিতীয়বার অস্ত্রপচার করেও ক্ষত ঠিক না হওয়ায় চিকিৎসক এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ নিজেদের খরচে ছেলেকে সল্টলেকের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করে। সেখানে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয় পিত্তনালী ফুটো হয়ে গিয়েছে। কলকাতার নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দেওয়ার পর ফের তাকে রামপুরহাটের নার্সিংহোম ভর্তি করা হয়। ১৬ জুলাই নিজের খরচে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ ছেলেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

- Advertisement -

পরিবারের অভিযোগ চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার জন্যই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের লোকজন রামপুরহাটে তৃণমূল বিধায়কের নার্সিংহোমের সামনে মৃতদেহ নামিয়ে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ঘণ্টা তিনেক বিক্ষোভ চলার পর পুলিশি মধ্যস্থতায় মৃতদেহ তুলে নিয়ে গিয়ে সৎকার করে পরিবারের লোকজন।

জটাইবাবু বলেন, “চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার জন্যই ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আমরা দরিদ্র মানুষ। তাই হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু ওই চিকিৎসক আমাকে নার্সিংহোমে ভর্তি করতে বাধ্য করেন। চিকিৎসকদের অর্থের লোভে আমি ছেলেকেই হারালাম”। যদিও এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি অশোক চট্টোপাধ্যায়।