শিলিগুড়ির দুটি কোভিড হাসপাতালে অব্যবস্থার অভিযোগ

408
প্রতীকী ছবি- ছবির সঙ্গে প্রতিবেদনের কোন সম্পর্ক নেই

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়ির দুটি কোভিড হাসপাতালের নানা অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। রোগীদের অনেকেরই অভিযোগ, কোনও ঘরে পাখার ব্যবস্থা নেই, কোথাও নোংরা পরিষ্কার করা হয় না। হাসপাতালের শৌচালয় অস্বাস্থ্যকর। করোনায় সংক্রামিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসসার জন্য এসে অনেকে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর অবশ্য এই অব্যবস্থার অভিযোগ মানতে চায়নি। দার্জিলিংয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রলয় আচার্য বলেন, কারও কোনও সমস্যা থাকলে তা আমার কাছে জানাতে হবে তো। আমি তো এসবের কিছুই জানি না। দ্রুত খোঁজখবর করে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শিলিগুড়ির হিমাঞ্চল বিহারের কোভিড হাসপাতালে ১০০ শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে, কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতালে ৬০টি শয্যা রয়েছে। প্রথমদিকে রোগীর সংখ্যা কম থাকায় সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বেড়েছে। মাঝে হিমাঞ্চল বিহারের কোভিড হাসপাতালে একদিনে ১১০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। বাধ্য হয়ে কাওয়াখালির সারি হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল হিসাবে নেওয়া হয়। সেখানেও রোগীর ভিড় বাড়ছে। দুটি হাসপাতালে বিভিন্ন অব্যবস্থা নিয়ে রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। গত ১০ জুন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় সংক্রামিত হলে তাঁদের কাওয়াখালির কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালের চারতলায় নার্সদের যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে পাখার ব্যবস্থা ছিল না। শৌচাগারের অবস্থাও খুবই খারাপ ছিল। হাসপাতালের এই অবস্থা দেখে স্বাস্থ্যকর্তাদের ফোন করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মেডিকেলের স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে, তারপরও পরিস্থিতি বদলায়নি। পরদিন একটি পাখার ব্যবস্থা করা হয়। শুক্রবার নিজেদের উদ্যোগে নার্সরা সেখানে পাখা লাগানোর ব্যবস্থা করেন। এখানেই মেডিকেলের অপারেশন থিয়েটারে কর্মরত যে কর্মীরা করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন তাঁরাও রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, শৌচাগারের অবস্থা খুব খারাপ। খাবার যা দেওয়া হচ্ছে তাতে পেট ভরছে না। ওই কর্মীরা বলেন, আমাদের তো সংক্রমণ হয়েছে। ডায়েট করা অর্থাত্ খাদ্যাভ্যাসে বদল নিয়ে আসতে বলা হয়নি। তাহলে কেন পেট ভরে খাবার দেওয়া হবে না?

- Advertisement -

হিমাঞ্চল বিহারের কোভিড হাসপাতালের নানা অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন একাধিক মানুষের বক্তব্য, করোনায় সংক্রামিত হয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসে তাঁরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাঁদের অনেকেই বলেন, ঘরগুলি নিয়মিত সাফাই করা হচ্ছে না। যেখানে-সেখানে আবর্জনা জমে রয়েছে। দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। শৌচাগারের অবস্থা খুবই অস্বাস্থ্যকর। শৌচাগারে নিয়মিত জল থাকছে না। দুর্গন্ধে সেখানে রোগীরা যেতে পারছেন না। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। গত তিন-চারদিন ধরে সাফাইকর্মীরাও আসছেন না বলে অভিযোগ।