তৃণমূলের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ, বেপাত্তা অভিযুক্ত

625

রাঙ্গালিবাজনা: ১৫ বছর বয়সী নাবালিকা আদিবাসী পরিচারিকাকে টানা দু’বছর ধরে ধর্ষণ করে দু’বার গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান প্রদীপ সূত্রধরের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খয়েরবাড়ি গ্রামেরই ওই নাবালিকা মাদারিহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এরপরই গা ঢাকা দেন অভিযুক্ত উপপ্রধান প্রদীপ সূত্রধর। তবে শুক্রবার মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, আমি নির্দোষ। আমাকে ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হয়েছে।

- Advertisement -

এদিকে, ঘটনার অভিযোগ দায়ের হতেই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে বিজেপি। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদারিহাট থানায় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি রাজু ব্যানার্জি, আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা, মাদারিহাটের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা, ১৮ নং মন্ডলের সভাপতি নেপাল রায় প্রমুখ।

তবে, বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকা সরগরম থাকলেও বিজেপি ও তৃণমূল কোনও দলই মেয়েটির পরিবারের পক্ষে দাঁড়ায়নি বলে শুক্রবার বীরপাড়ায় সাংবাদিক বৈঠকে আদিবাসী সংগঠনগুলি সাফ জানিয়ে দেয়। বীর বীরসা মুন্ডা উলগুলান নামে একটি আদিবাসী সংগঠনের সভাপতি কিশোর কুজুর বলেন, মেয়েটির পাশে কোনও রাজনৈতিক দল দাঁড়ায়নি। তাই আমরা পথে নেমেছি।

তরাই ডুয়ার্স সারনা যুব সমিতির সম্পাদক সুশীল ওরাওঁ বলেন, পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে একশ্রেণীর মানুষ। মেয়েটির পরিবারের ওপর ভীষণ চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। বিজেপির ১৮ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি নেপাল রায় বলেন, তৃণমূলের জমানায় ধর্ষণ বেড়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নারীদের নিরাপত্তায় ব্যর্থ। একজন উপপ্রধান ন্যক্কারজনক কান্ডের প্রতিবাদ জানাই।

তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তকে প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্ন নেই। প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে। কেউ অন্যায় করলে দল তাঁর দায় নেবে না। মাদারিহাট থানার ওসি টিএন লামা শুক্রবার বিকেলে বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তের সন্ধান চলছে। তবে জয়গাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুন্তল বন্দোপাধ্যায় ও জেলা পুলিশ সুপার অভিতাভ মাইতি ফোন ধরেননি।