নিয়ম ভেঙে ঘর ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ পুরসভার বিরুদ্ধে

106

ধূপগুড়ি : পুরসভার নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ঘুরপথে ভাড়া দেওয়া হয়েছে ধূপগুড়ি পুরসভা অফিসের নীচের ১০টি স্টল। এই অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরবোর্ডের বিরুদ্ধেই সরব দলের টাউন ব্লক সভাপতি। স্টল ভাড়া দেওয়া নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ক্ষোভ জমেছে।

নভেম্বর মাসের পুরবোর্ডের সভায় শহরের কলেজ রোডের ওপর ঘোষপাড়া মোড়ে ধূপগুড়ি পুরসভার অফিসের নীচে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ার জন্য ১০টি স্টল ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাঁর আবেদনের ভিত্তিতে ওইসব স্টল ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই জয়দীপ বসাক ধূপগুড়ি পুরসভারই অস্থায়ী কর্মী। যদিও জয়দীপবাবু বলছেন, আবেদনটা আমার হাতে ছিল তাই করেছিলাম। বোর্ড সভার অনুমোদন না পেলে ভাড়া কীভাবে পেতাম? পুরসভা আমার প্রস্তাবে রাজি হয়ে অনুমতি দিয়েছে বলেই ভাড়া নিয়েছি।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, পুরভবনের নীচে পাশাপশি ১০টি স্টল মাসিক ১৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুরসভা। সেই মোতাবেক কাজে হাত দেয় নতুন সংস্থা। এ ব্যাপারে উপ পুরপ্রধান রাজেশকুমার সিং বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থেকে ক্ষতি হচ্ছিল স্টলগুলোর। পুরসভাও আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। তাই ওই সংস্থার তরফে আবেদন করা হলে তা বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ওই সংস্থা বিধিবহির্ভূত কাজ করলে নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রে কোথাও কোনও দুর্নীতি হয়নি এটুকু জোরের সঙ্গেই বলতে পারি। এদিকে, ঘোষপাড়া মোড়ের ব্যবসায়ী বলরাম ঘোষ বলেন, আমরা বহুবার পুরসভার কাছে দোকানঘর ভাড়া চেয়েছি। কিন্তু প্রতিবারই আমাদের বেশি ভাড়া বলা হয়েছে। এদিকে রাতারাতি কোনও একটি সংস্থাকে একসঙ্গে ১০টি ঘর দিয়ে দেওয়া হল, তাও আবার নামমাত্র ভাড়ায়। এটা উচিত হয়নি। মাসিক ১,৫০০ টাকা ভাড়ায় ঘর দেওয়া হলে আমার মতো বহু ব্যবসায়ী অনেক আগেই সব ঘর ভাড়া নিতেন। তাঁর কথায় সায় জানান অন্যরাও।

এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে টাউন ব্লক তৃণমূল সভাপতি দেবদুলাল ঘোষেরও। তিনি বলেন, এই কাজকে দল কোনওভাবেই অনুমোদন করে না। পুরসভা যদি ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তার সুফল সবার আগে এলাকার ব্যবসায়ীদের দিতে হবে। সেটা না করে কারও বক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করা আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শ নয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতি এই বঞ্চনা ঠেকাতে আমি লড়াই চালাব। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অস্থায়ী পুরকর্মীর নামে ১০টি স্টল ভাড়া নেওয়ার পিছনে পুরসভার প্রাক্তন উপ পুরপ্রধান তথা বর্তমান কাউন্সিলার এবং প্রাক্তন টাউন ব্লক সভাপতি অরূপ দে রয়েছেন। যদিও অরূপ দে বলেন, প্রথমত আমার সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ পুরসভার স্টলগুলো ফাঁকা পড়ে নষ্ট হচ্ছিল। প্রথমে আমরা এগুলো বিক্রি করতে চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। অবিক্রিত থাকায় ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রচার করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখায়নি। এখন যখন পুরসভা এর থেকে উপার্জন করতে চাইছে তখন কারও হয়তো সমস্যা হচ্ছে। তাই তাঁরা এর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। শুক্রবার ১০টি স্টল ভাড়া নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ার বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় ঘোষপাড়া মোড় পুর অফিস চত্বরে প্রকাশ্যে বচসায় জড়ান প্রাক্তন ও বর্তমান তৃণমূল ব্লক সভাপতি।

অন্যদিকে, নভেম্বর মাসের পুরবোর্ড সভায় স্টল ভাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেবদুলালবাবুর স্ত্রী তথা ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অর্পিতা ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। তাহলে এতদিন পর তিনি কেন সরব হলেন তা নিয়ে দলের আরেক পক্ষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে পুরসভার বিরোধী দলনেতা কৃষ্ণদেব রায় বলেন, যে পুরবোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেখানে আমিও ছিলাম। তবে পরবর্তীতে বেশ কিছু ক্ষেত্রে আমাদের অন্ধকারে রেখে কাজটা করা হয়েছে। প্রথমত স্টলগুলিকে নিজের অবস্থায় না রেখে মাঝের দেওয়াল ভাঙা হয়েছে যা ঠিক হয়নি। দ্বিতীয়ত ভাড়া কমানোর বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জানানো খুব দরকার ছিল যা করা হয়নি। এতে দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছি আমরা। অবিলম্বে এইসব বিষয় পরিষ্কার না হলে এই অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না।