পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকার ‘টেন্ডার’ দুর্নীতির অভিযোগ

154

সামসী: বিজেপি পরিচালিত চাঁচল-২ ব্লকের(মালতীপুর)গৌড়হন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে টেন্ডার বিলিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠল। বুধবার বিডিওর নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ করেন এলাকার কতিপয় বাসিন্দা ও ঠিকাদাররা। মঙ্গলবার টেন্ডার বিলি করার কথা থাকলেও ঠিকাদারদের ফর্ম দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি প্রধান ও পঞ্চায়েত কর্মীদের বিরুদ্ধে গর হাজিরার অভিযোগ রয়েছে।

বদিরুদ্দিন আহমেদ, মজিবুর রহমান প্রমুখ ঠিকাদার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে জানান, প্রধান তাঁর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের গোপনে টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। ফলে মঙ্গলবার টেন্ডার ফর্ম দেওয়ার কথা থাকলেও প্রধান বা উপপ্রধান কিংবা পঞ্চায়েত কর্মী কেউই হাজির হননি বলে অভিযোগ। ফলে ঘটনাকে ঘিরে পঞ্চায়েত দপ্তরে উত্তেজনা ছড়ানোর পাশাপাশি পঞ্চায়েত দপ্তরে তালা মেরে বিক্ষোভও দেখানো হয়। পরে পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও জানানো হয়।

- Advertisement -

তৃণমূলের এক ঠিকাদার আমানত সরকার, বদিরুদ্দিন আহমেদ, মজিবুর রহমানরা বিডিওর নিকট করা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করে বলেন, ‘পঞ্চায়েত বিজেপি পরিচালিত তাই প্রধান নিজে টেন্ডার বিক্রি করে পঞ্চায়েত চালাচ্ছেন। এমজিএনআরইজিএস প্রকল্পের প্রায় আড়াই কোটি টাকার কাজের টেন্ডার বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ।‘ বিজেপির মতোই ট্রেন, বিমান বিক্রির মতো টেন্ডার বিক্রি করে খাচ্ছে প্রধান বলে অভিযোগ ওই তৃণমূলের ঠিকাদারের।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বিডিওর কাছে অভিযোগ করে বলেন,প্রধানসহ পঞ্চায়েতের কোনো আধিকারিক দপ্তরে ঠিক মতো আসেননা।ফলে পঞ্চায়েতে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষ বিমুখ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।এরকম ঘটনা প্রায় হচ্ছে।তাই বিষয়টি জানিয়ে বিডিওর নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়।

এবিষয়ে মালদা জেলা বিজেপি কমিটির সম্পাদক দীপঙ্কর রাম বলেন, ‘চাঁচল এলাকায় একটি মাত্র বিজেপির পঞ্চায়েত।তাই তৃণমূল সবসময় পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজে বাধা দিচ্ছে। তবে বিজেপির প্রধান যে টেন্ডার বিক্রি করে খাচ্ছে তা একেবারে যুক্তিহীন বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। কাটমানি সংস্কৃতি তো তৃণমূল কংগ্রেসের মধ‍্যে আছে।গোটা রাজ‍্য জানে কাটমানি কারা খাচ্ছে।’

বিজেপি শাসিত গৌড়হন্ড জিপির প্রধান পুষ্প ওঁরাও টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রীতিমতো নিয়ম মেনে কাগজে নোটিস দিয়ে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। আর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা টেন্ডারে কাটমানি খাওয়ার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেছেন। আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকজন পঞ্চায়েতের বদনাম করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন।‘

চাঁচল-২ ব্লকের বিডিও দিব্যজোতি দাস এপ্রসঙ্গে বলেন, ‘গৌড়হন্ড জিপির টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। আপাতত প্রধানকে টেন্ডার প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান বিডিও।‘