বিজেপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ বক্সিরহাটে

95

বক্সিরহাট: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে তুফানগঞ্জ ২ ব্লকে রাজনৈতিক হিংসা ততই বেড়ে চলেছে। বারকোদালি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতে মঙ্গলবারও রাজনৈতিক অশান্তি অব্যাহত। ওই এলাকার মধ্য বেগারখাতায় বিজেপির কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভে শামিল হন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য তথা স্থানীয় বাসিন্দা লিপিকা রায় বর্মনের অভিযোগ, সোমবার রাতে ঝড়-বৃষ্টির পর তাঁরা বাড়ি চলে যান। মঙ্গলবার সকালে এসে দেখেন, তাঁদের ৯/২২৪ নম্বর বুথের নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কার্যালয়ের ভিতরে চেয়ার-টেবিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে ফ্যান। ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে দলীয় পতাকা, ফেস্টুন। এমনকি, কার্যালয়ের বেশ কিছু জিনিসপত্র সামনের নদীর জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন লিপিকা। ঘটনার সময় সেখানে দলের কেউ থাকলে দুষ্কৃতীরা তাঁদেরও খুন করে ফেলত বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি।

- Advertisement -

খবর পেয়ে এদিন ঘটনাস্থলে আসেন বিজেপির ৩১ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত দাস। তাঁর দাবি, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। বাইক মিছিল নিষিদ্ধ। তবে গতকাল নিকটবর্তী ভাড়েয়া গ্রামে ২৫-৩০ জন তৃণমূল কর্মী রাস্তা দিয়ে বাইক মিছিল করে বিজেপি কর্মীদের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনাও ছড়ায়। পরে পুলিশ এসে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে সেই রাতেই তাঁদের কার্যালয়ে তৃণমূলের লোকজন অস্ত্র সমেত হামলা চালায়। তাঁদের না পেয়ে কার্যালয়েই ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। তবে সেই সময় কোনও পুলিশ কর্মীরই দেখা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন সুশান্ত। খবর পেয়ে এদিন সকালে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ।

সুশান্ত দাসের অভিযোগ, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে রবিবার ওই এলাকায় তাদের নিজেদের মধ্যে মারপিটে দু’জন আহত হলেও সেই দোষ চাপানো হয় বিজেপির ওপর। এরপরও এলাকায় সন্ত্রাস বজায় রাখতে এই কাজ করে তৃণমূল। তাঁরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে সকাল থেকে বিজেপির কর্মীরা ঘটনাস্থলে জমায়েত হন ও বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে পুলিশ গেলে পুলিশের সামনে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখিয়ে তারা বাড়ি চলে যান।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন তৃণমূলের ওই বুথের সভাপতি প্রশান্ত দাস। তাঁর দাবি, রবিবার দলের দুই কর্মীর ওপর হামলার ঘটনার পর এলাকায় এমনিতেই আতঙ্কিত হয়ে ঘরে রয়েছেন তাঁরা। তাই কে বা কারা ওই কাজ করেছে, তা তাঁদের জানা নেই। তবে তৃণমূলের কেউ ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন তিনি।

বক্সিরহাট থানার ওসি অ্যান্থনী হারা জানান, এই ব্যাপারে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। ঘটনার তদন্ত চলছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।