নির্বাচনি বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে

96

মানিকচক: ভোট ঘোষণার পরে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করায় নির্বাচনি বিধি ভঙ্গের অভিযোগ। চুপিসারে কোটি কোটি টাকার কাজ করে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ভূতনির উত্তর চন্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে।

তৃণমূল পরিচালিত উত্তর চন্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোট ঘোষণার পরে প্রায় ৬ কোটি টাকার ই-টেন্ডার ডাকা হয়েছে। চুপিসারে এই সময়কালে ডিসিআর কাটার অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যাপারে স্থানীয় মানুষ ও কিছু নির্মাণ সংস্থা নির্বাচন কমিশন এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক, ব্লক আধিকারিকের কাছে টেন্ডার বাতিল এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা মারফত আলি, আব্দুল ওয়াহাবদের অভিযোগ, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়। ফলে বর্তমানে নির্বাচনি বিধি লাগু রয়েছে। এর মধ্যে কোনওরকম টেন্ডার প্রক্রিয়া করা যায় না। অথচ উত্তর চন্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত গত ২ মার্চ বিজ্ঞপ্তি জারি করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এর আগে প্রথম তারা ২৪ ফেব্রুয়ারি টেন্ডারের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সেখানে বিডারদের জন্য ৪০ শতাংশ ক্রেডেনশিয়াল রাখা হয়েছিল। কিন্তু স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিজেদের লোককে কাজ পাইয়ে দিতে সেই টেন্ডার বাতিল করে। ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির পর গত ২ মার্চ ৩০ শতাংশ ক্রেডেনশিয়াল চেয়ে ফের টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। রাস্তা, পঞ্চায়েত ভবন সংস্কার সহ ২১টি কাজের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকার কাজ। বেআইনিভাবে এই কাজ পাইয়ে দিতে এই ব্যবস্থা করেছে। এজন্য তারা অবিলম্বে টেন্ডার বাতিল এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মানিকচকের বিডিও তথা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিক জয় আহমেদ এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এই অভিযোগের বিষয়ে প্রধানের ব্যাখ্যা জানতে চাইব। নির্বাচনি বিধি কার্যকর থাকাকালীন কি করে এই টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণিত হলে এই টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।’

প্রধান বিউটি খাতুন বলেন, ‘আমি যা করেছি নিয়ম মেনে করেছি।’ নির্বাচনি বিধি কার্যকর হওয়ার পরে টেন্ডার প্রক্রিয়া ঘোষিত হয়েছে। তা পক্ষান্তরে তিনি স্বীকার করে নেন। এমনকি, নির্বাচনি বিধি ঘোষণার পরে ডিসিআর কাটা হয়েছে। কার্যত তিনি তাও স্বীকার করে নিয়েছেন।