বধূকে বিষ খাইয়ে পুড়িয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে

236

রায়গঞ্জ: দাবি মতো পণের টাকা না মেলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে, পুড়িয়ে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। রবিবার দুপুরে রায়গঞ্জ থানার মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ষোলোবিঘা গ্রামের ঘটনা। গৃহবধু চিৎকার চেঁচামেচি শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের বার্নট ইউনিটে ভর্তি করে।

কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার  অবস্থার অবনতি হওয়ায় কলকাতার পিজি হাসপাতালে রেফার করেছে কর্তব্যরত শল্যচিকিৎসক সঞ্জয় শেঠ। এদিকে অগ্নিদগ্ধ অন্তঃসত্ত্বা বধূর পরিবার ফোন মারফত খবর পেয়েই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসে। বর্তমানে গৃহবধূর স্বামী সহ শ্বশুর বারির লোকজন পলাতক। রায়গঞ্জ মেডিকেলের কর্তব্যরত শল্যচিকিৎসক সঞ্জয় শেঠ বলেন, “ওই গৃহবধূর শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অন্য মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে।”

- Advertisement -

প্রতিবেশী সূত্রে খবর, পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মিলন রায়ের সঙ্গে আট মাস আগে রায়গঞ্জ থানার বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাখি রায়ের বিয়ে হয়। বিয়ের মাস তিনেক যেতে না যেতেই রাখি দেবীকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন স্বামী মিলন রায়। অভিযোগ, চাহিদা মতো টাকা না পেলে প্রায়ই মারধর করা হতো। সম্প্রতি প্রায় দুই লক্ষ টাকা বাপের বাড়ি থেকে আনার জন্য রাখি দেবীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু টাকা না পেয়ে বধূর ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করে মিলন রায় ও তার পরিবার।

অভিযোগ, রবিবার দুপুরে স্ত্রীকে বিষ মেশানো দুধ খাইয়ে দেয় স্বামী মিলন রায়। এরপর স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে, বধূর বাবা-মা, ভাই তড়িঘড়ি রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। খবর লেখা পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন অগ্নিদগ্ধ চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ।

জখম গৃহবধূর বাবা মংলু রায়ের অভিযোগ, “আমার মেয়েকে বিষ খাইয়ে, গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে খুন করার চেষ্টা করেছে জামাই ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। অপরাধীদের শাস্তি হোক। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন আমার মেয়ে বাঁচবে না। ১০০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে।” রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক বলেন,“ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।”