বিয়ে করতে অস্বীকার করায় প্রেমিককে অপহরণের অভিযোগ

277

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ: প্রায় দেড় মাস ধরে বিয়ের দাবিতে এক সিভিক ভলান্টিয়ারসের বাড়ির সামনে ধরনা চালিয়ে যাচ্ছেন এক যুবতী। কিন্তু সেই দাবি এখনও পূরণ হয়নি। উলটে, মেয়েটিকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে বাড়ির বাইরে এতদিন সময় কাটাচ্ছিলেন অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার্স। এবার বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে ওই সিভিক এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অপহরণের অভিযোগ উঠল মেয়ের বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটিকে ঘিরে কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের জামালদহে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জানা গিয়েছে, বিয়ের দাবিতে লকডাউনকে উপেক্ষা করে গত ১১ মে জামালদহের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম খাসবস দ্বারিকামারিতে গিয়ে ধরনায় বসে পড়েন এক যুবতী। সেদিন থেকে আজ অবধি তিনি লাগাতার ধরনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই যুবতী ধরনায় বসার কয়েকদিন পরই বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান তাঁর প্রেমিক।

- Advertisement -

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা খাসবস দ্বারিকামারি গ্রামে বাস করেন মেখলিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ জ্যোতিষ রায়। তাঁর ভাই সঞ্জীব রায় পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার্স। তিনি মেখলিগঞ্জ থানায় কর্মরত। জানা গিয়েছে, বছর ২৯-এর সঞ্জীবকে বিয়ে করার দাবি নিয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে ধরনায় বসেছেন ১৮৮ খারিজা গোপালপুর গ্রামের ২০ বছরের এক যুবতী। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রণয়ের সম্পর্ক থাকলেও সম্প্রতি ওই যুবতীকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সঞ্জীব। ফলে বাধ্য হয়েই বিয়ের দাবিতে তাঁর বাড়ির সামনে ধরনায় বসে পড়েছেন কৃষক পরিবারের উচ্চ মাধ্যমিক অনুর্তীর্ণ ওই যুবতী।

জানা গিয়েছে, গত ১১ মে থেকে বিয়ের দাবিতে একটানা ধরনায় বসেছে মেয়েটি। এরপরই তার তথাকথিত প্রেমিক নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। ধরনা চলাকালীন সময়েই বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে একাধিকবার সালিশি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তাতেও কোন সমাধান সূত্র মেলেনি। এরই মধ্যে রবিবার রাত এগারোটা নাগাদ মাথাভাঙ্গা১ নম্বর ব্লকের গোপালপুর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে হানা দিয়ে সঞ্জীবকে মেয়েপক্ষের লোকজন অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে রাতেই মাথাভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সোমবার সকালে সঞ্জীবের দাদা জ্যোতিষবাবু বলেন, ‘আমরা চরম উৎকন্ঠায় রয়েছি। ভাইয়ের এখনও পর্যন্ত কোনও হদিস মেলেনি।পাশাপাশি, জ্যোতিষবাবুর দাবি, ওই মেয়েটির সঙ্গে আমার ভাইয়ের কোনওরূপ সম্পর্ক নেই বলে জানতে পেরেছি। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় ভাই এমনিতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার পর কাল রাত থেকে ভাইয়ের খোঁজ মিলছে না।

মেয়েটি অবশ্য এতকিছু সত্ত্বেও এখনও ধরনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘বাইরে কি হচ্ছে বলতে পারব না। তবে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলেই তো ওঁর (সঞ্জীব) বাড়িতে এসেছি। যাঁকে ভালোবেসে মান খুঁইয়েছি, তাঁকেই বিয়ে করব। সম্পর্কের পরিণতি না পাওয়া পর্যন্ত এই ধরনা চালিয়েই যাব। এ প্রসঙ্গে মেখলিগঞ্জ থানা ও মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপই নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে মেয়েটির পরিবারের কারও কোনও বক্তব্য মেলেনি।