বধূকে বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগ

429

রায়গঞ্জ: দাবিমতো টাকা না মেলায় ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বা বধূকে খুন করার অভিযোগ উঠল স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ অভিযুক্ত শ্বশুরকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় মৃতের পরিবার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গ ক্যাম্পাসে। বৃহস্পতিবার রাতে রায়গঞ্জ থানার শেরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খোকসা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হলেও বধূর স্বামী, শাশুড়ি, ননদ পলাতক।

পুলিশ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী গোপাল বর্মন পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। পাশাপাশি হাটে হাটে ধান ও পাটের ব্যবসা করেন তিনি। গ্রামেরই মেয়ে ত্রিফলা বর্মনের সঙ্গে বছর দেড়েক আগে বিয়ে হয় তাঁর। বিয়ের পর থেকেই তিনি ত্রিফলা দেবীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতেন। টাকা না পেলে প্রায়ই ওই বধূকে মারধোর করা হত বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ২ লক্ষ টাকা নিয়ে আসার জন্য ত্রিফলা দেবীর ওপর চাপ দেন স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। টাকা না পেয়ে ওই অন্তঃসত্ত্বা বধূর ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু হয়।

- Advertisement -

অভিযোগ, বধূর দুধে বিষ মিশিয়ে তাঁকে খুন করার চেষ্টা করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ওই বধূর চিৎকার-চেঁচামেচিতে ছুটে আসে পাড়া-পড়শিরা। খবর যায় মেয়ের বাড়িতেও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় মেডিসিন বিভাগ থেকে আইসিইউ বিভাগে স্থানান্তরিত করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয় অন্তঃসত্ত্বা ওই বধূর।

মৃতার বাবা হরেকৃষ্ণ বর্মন বলেন, মেয়ের বিয়ের সময় ২ লক্ষ টাকা নগদ দিয়েছিলাম। সম্প্রতি ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। তারপরেও ২ লক্ষ টাকা দাবি করে ওরা। সেই টাকা না দেওয়ায় আমার জামাই ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন মেয়েকে পরিকল্পনা করে খুন করে। আমি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এদিকে অভিযুক্ত শ্বশুর অনন্ত বর্মনকে এদিন বিকেলে বেধড়ক মারধর দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। অভিযুক্ত শ্বশুরের বক্তব্য, মেয়ের বিয়ের জন্য ২ লক্ষ টাকা ধার চেয়েছিলাম। এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করে দেওয়ার কথা বলেছিলাম। আমরা পণ বাবদ টাকা চাইনি। আমরা বৌমাকে বিষ খাইয়ে খুন করিনি।

পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, রায়গঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। শেরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দিপালী বর্মন বলেন, আমার সংসদ এলাকার ঘটনা। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছি।