কুয়োয় বিষ মেশানোর অভিযোগ

279

পলাশবাড়ি: পানীয় জলের কুয়োয় বিষ মেশানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিরুবাড়ি গ্রামে। ঘটনার জেরে পাঁচ পরিবারের বাসিন্দারা পানীয় জলের সংকটে পড়েছেন। তাঁরা পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন টিউবওয়েল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ওই পরিবারগুলি কিছুদিন আগে বিজেপে ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয়। এজন্যই বিজেপি আশ্রিত দুস্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। তবে অভিযোগ উড়িয়ে বিজেপির দাবি, তৃণমূল বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জানা গিয়েছে, পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সিরুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ এখনও কুয়োর জল খান। এর পাশাপাশি ওই জলেই স্নান সহ অন্যান্য কাজ করেন। পাঁচটি পরিবার মিলে থাকা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কুয়োয় কীটনাশক মেশানোর ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্র দাস বলেন, ‘এই কুয়োর জলই পাঁচটি পরিবারের মূল ভরসা। কিন্তু কে বা কারা গত মঙ্গলবার রাতে কুয়োয় বিশাক্ত কীটনাশক মিশিয়ে দেয়। এদিন সকালে কুয়ো চত্বরে কীটনাশকের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। জলের রংও বদলে যায়। এসব দেখেই সবাই ওই জল খাওয়া বন্ধ করে দিই।’

- Advertisement -

তিনি জানান, এজন্য পানীয় জলের ব্যাপক সংকট শুরু হয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক দূর থেকে জল আনতে হচ্ছে। এই পুরো বিষয়টি উল্লেখ করে পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে লিখিতভাবে তাঁরা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে এদিন ওই এলাকায় যান আলিপুরদুয়ার-১ পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য গৌতম সরকার। তিনি বলেন, ‘জলের অপর নাম জীবন। তাই এরকম কাজ মেনে নেওয়া যায় না। এটা নিন্দনিয় ঘটনা।’ তিনি ওই এলাকায় একটি টিউবওয়েল বসানোর আশ্বাস দিয়েছেন। পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। আমাদের তরফে ওখানে একটি টিউবওয়েল বসানো হবে।’

এদিকে এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই ৫টি পরিবার কিছুদিন আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেয়। সিরুবাড়ি এলাকায় বিজেপির প্রভাব রয়েছে। তাই বিজেপি আশ্রিত দুস্কৃতীরাই এই কাজ করেছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ। দলের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি অঞ্চল সভাপতি নিরঞ্জন রায় বলেন, ‘ওই পরিবারগুলি এখন তৃণমূলের সমর্থক। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত বিজেপির দুস্কৃতীরা পানীয় জলের ওই কুয়োয় বিষ মিশিয়েছে।

এই ঘটনায় নিন্দার কোনও ভাষা নেই। প্রশাসনকে জানিয়েছি, দোষিদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি অঞ্চল প্রমুখ সুরেন সরকার বলেন, ‘বিজেপিতে যোগদানের দরজা যেমন খোলা রয়েছে, তেমনি কারও স্বার্থসিদ্ধি না হলে দল থেকে বেরোনোর পথও খোলা আছে। পানীয় জলের কুয়োয় বিষ মেশানোর মত ঘটনা আমরাও সমর্থন করি না। আর বিজেপি কখনই এরকম রাজনীতি করে না।’ তাঁর দাবি, বিজেপির নামে বদনাম ছড়াতেই তৃণমূল এই ঘটনায় মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।