স্বনির্ভর গোষ্ঠীর টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে

323

রাকেশ শা, ঘোকসাডাঙ্গা: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের রাজ্য সরকারের তরফে বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ দিয়ে সাহায্য করছে। পোল্ট্রির ফার্মের জন্য এককালিন অনুদান স্বরূপ প্রায় এক লক্ষ টাকা অনুদান দেয় সরকার। তারই সুবাদে মাথাভাঙ্গা-২ পঞ্চায়েত সমিতির ব্লকের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাদেরও পোল্ট্রি ফার্মের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। সেই মত মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বেশ কিছু স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নামে সেই অনুদানের অর্থে ফার্মের টাকা মঞ্জুর করা হয়। অভিযোগ সেই অনুদান দলগত ভাবে না দিয়ে বিশেষ একজনের নামে মঞ্জুর করেছেন এক জনপ্রতিনিধি। সে খবর জানার পরই বেজায় চটেছেন দলের অন্য মহিলারা। এমনকি সেই অভিযোগ নিয়ে বিডিওর দ্বারস্থও হয়েছেন অনেকে। কেঊ আবার লকডাউন শেষ হলে বিডিওকে অভিযোগ জানাবে।

জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে এই স্কিম চালু করে। তারপরই আবেদন পত্র মোতাবেক সেই অনুদান পাশ করা হয় এবং পঞ্চায়েত সমিতির মাধ্যমে ঘরগুলির জন্য ইটেন্ডার করা হয়। টেন্ডার মোতাবেক ঘরের কাজ শুরু করতে গিয়ে দলের নাম অনুসারে বোর্ড লাগানো হয় আর তখনই গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। দলের অন্য মহিলারা বিষয়টি জানতে পেরে সরব হয়। মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের উনিশ বিশা গ্রাম পাঞ্চায়েতের শিলডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কিছু দলের অভিযোগ স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুচিত্র কুমার পাটোয়ারী চুপি চুপি কতিপয় মহিলার কাগজ নিয়ে তাদের এই অনুদান পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এমনকি সুচিত্র বাবুর মা প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তার নামেও এই স্কিম নিয়েছেন বলে অভিযোগ। স্বাভাবিক ভাবে সজন পোষণের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকটি দলের মহিলারা।

- Advertisement -

এ বিষয়ে শিলডাঙ্গা গ্রামের হাসি খুশি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, কল্যাণ সমিতি স্বনির্ভর গোষ্ঠী,পূজা স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সঙ্গীতা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সারথি বর্মন, হৈমবতী বর্মন,প্রতিমা অধিকারী, শেফালী বর্মনরা জানান, আমাদের না জানিয়ে চুপি চুপি দলের এক জন, কোনো দলের দুই জনের কাগজ নিয়ে অনুদান নিয়েছে তারা। এখন ঘরের কাজ শুরু হওয়াতে দলের নামে বোর্ড লাগালে আমরা বিষয়টা জানতে পারি। আর এই অনুদান পাইয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুচিত্র কুমার পাটোয়ারী। আবার যে মহিলার নামে এই অনুদান এসেছে তারা নাকি বলছে এটা আমার ব্যক্তি গত আমি এর ভাগ কাউকে দেব না, কার কি করার আছে করে নিও। এতে চটে গিয়ে হাসি খুশি দলের মহিলারা জয়েন বিডিওকে স্মারক লিপির মাধ্যমে গোটা বিষয়টি অভিযোগ করেন। আবার লকডাউনের কারনে বাকি মহিলা দল গুলি বিডিওর কাছে যেতে না পারলেও লকডাউন বের হলে এই নিয়ে বিডিওর কাছে তারা অভিযোগ জানাবেন বলেও জানা যায়।

এ বিষয়ে মাথাভাঙ্গা ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপ্তি তরফদার বলেন, লোকসভা ভোটের পরে আমি আমার ব্লকের সকল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের ডেকে এই স্কিমের কথা বলি এবং যার যার এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রয়োজনীয় কাগজ জমা দিতে বলি। সেই মত অনুদান গুলি পাশ হয়েছে। তবে এই বিষয়টি আমার জানা নেই খোঁজ নিয়ে দেখছি। অন্যদিকে পঞ্চায়েত সমিতির সেই সদস্য সুচিত্র কুমার পাটোয়ারীকে বারবার ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তার প্রতিক্রিয়া জানা যায় নি। এ বিষয়ে ফোন না ধরায় বিডিও রজত রঞ্জন দাসেরও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।