জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : উন্নয়ন খাতের বরাদ্দকৃত ৫ কোটি টাকা জলপাইগুড়ি পুরসভা খরচ করতে না পারায় ফেরত চলে গিয়েছে। অথচ, জলপাইগুড়ি পুর এলাকার রাস্তা সংস্কারের কাজ দুর্গাপুজোর আগে পুর কর্তপক্ষ করতে পারেনি। বেহাল সড়ক নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। চাপের মুখে পড়ে পুর কর্তৃপক্ষ কালীপুজোর আগে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু রাস্তা সংস্কারের কাজ করছে। উন্নয়ন খাতে টাকা ফেরত যাওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিরোধী কাউন্সিলাররা ক্ষমতাসীন তৃণমূল পুর বোর্ডকে তুলোধোনা করেছেন। রাজ্য পুর দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সুব্রত গুপ্তের নির্দেশ অনুসারে উন্নযন খাতের টাকা সরকারের নির্ঘণ্ট অনুসারে খরচ করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট পুরসভার কাছ থেকে সেই অর্থ নিয়ে নেওয়া হবে। জলপাইগুড়ি পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য গত জুলাই মাসে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ পুরসভা খরচ করতে পারেনি। সরকারি নিয়মে সেই অর্থ ফেরত গিয়েছে।

পুরসভার ২৫ ওয়ার্ডের রাস্তার বেহাল অবস্থা। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকেই রাস্তা সংস্কারের দাবি পুর কর্তপক্ষের কাছে করা হয়েছে। আশ্বাস দেওয়া হলেও তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত জলপাইগুড়ি পুরসভা পুজোর আগে রাস্তার সংস্কার করেনি। শহরের সড়ক পরিসেবা নিয়ে ক্ষোভ তীব্রতর হচ্ছে। সিপিএমের কাউন্সিলার তথা গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক প্রদীপ দে বলেন, উন্নযন খাতে টাকা ফেরত যাচ্ছে। অথচ পুর কর্তপক্ষ উন্নয়নের ফিরিস্তি দিচ্ছে। জলপাইগুড়ি পুরসভার উন্নযনের কাজ তলানিতে এসে ঠেকেছে। জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি তথা নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির সদস্য নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের বোর্ড জনসাধারণের চাহিদা অনুসারে উন্নযন করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। শহরজুড়ে জঞ্জাল পরিষ্কার হয় না। অথচ, সরকারি উন্নযন খাতের টাকা ফেরত যাচ্ছে।

জলপাইগুড়ি পুরসভার পূর্ত বিভাগের চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো বলেন, ৫ কোটি টাকা ফেরত গেলেও এই অর্থ যাতে আবার পাই, সেইজন্য পুর দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আমরা আশাবাদী, দ্রুত এই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে।