পিএফে আঁধার, বিপাকে লক্ষাধিক চা শ্রমিক

46

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী সময়সীমা শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। তবে, এখনও ডুয়ার্সের প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিকের প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার তথ্যের গরমিল থাকায় সিডিং বা সংযুক্তকরণের কাজ বাকি রয়েছে। তরাই ও পাহাড়ের চা বাগানগুলি ধরলে এই সংখ্যা লক্ষাধিক। সিডিং না হলে সেপ্টেম্বর মাস থেকে চা বাগানগুলি ওই  শ্রমিকদের পিএফ-এর টাকা জমা দিতে পারবে না। অনলাইনে ইলেক্ট্রনিক চালান কাম রিসিপ্টও তৈরি হবে না। সব মিলিয়ে পিএফ-আধার ইস্যুতে উদ্বেগ ছড়িয়েছে চা বাগানগুলিতে। সময় বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে পিএফ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে শ্রম দপ্তর। শ্রমমন্ত্রী বেচারাম মান্নার কথায়, আমরা সময় বাড়ানোর কথা বলেছি। সেই ফাঁকে বাগানগুলিতে ফের শিবির করে আধার তথ্য সংশোধনের কাজ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একমাত্র আধার নম্বর সিডিং থাকা অ্যাকাউন্টেই পিএফ শেয়ার জমা করা যাবে বলে এর আগে নির্দেশ দিয়েছিল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)। এর জেরে উত্তরবঙ্গের চা বাগানের কয়েক লক্ষ শ্রমিক বিপাকে পড়েন। এরপর অগাস্ট মাসজুড়ে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে ৩৬টি আধার তথ্য সংশোধন শিবির করে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। ৮০টি বাগানের ১৬,৮০০ শ্রমিকের আধার তথ্য সংশোধন করে দেওয়া হলেও এখনও কয়েক হাজার বাকি। চা মালিকদের অন্যতম সংগঠন ডিবিআইটিএর সম্পাদক সঞ্জয় বাগচী বলেন, ডুয়ার্সে এখনও প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিকের আধার তথ্য সংশোধন প্রয়োজন। সিডিং-এর সময় বাড়িয়ে যাতে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়, সেই আবেদন জানানো হয়েছে পিএফ কর্তৃপক্ষকে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের শুখা মরশুমে ফের শিবির হলে সুবিধা হয়।

- Advertisement -

টেরাই ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টেশন (টিপা)-এর চেয়ারম্যান মহেন্দ্র বনশাল বলেন, ডুয়ার্সে যাও বা হয়েছে, তরাই ও পাহাড়ের চা বাগানগুলিতে একটিও শিবির হয়নি। সিডিংয়ের সময় না বাড়ালে কী হবে জানা নেই। তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত তরাই-ডুয়ার্স প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি নকুল সোনার বলেন, সিডিং না হওয়ায় একজন শ্রমিকেরও পিএফ খাতের টাকা জমা দেওয়া যদি আটকে যায় হয় তবে তা মেনে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। কেন্দ্রকেই পদক্ষেপ করতে হবে।

বিজেপি প্রভাবিত ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (বিটিডব্লিউইউ)-এর সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ হাতি বলেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলাকে আমরা সমস্যার কথা জানাচ্ছি। এর আগে তিনিই আধার শিবির আয়োজন নিয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

চা মহল জানাচ্ছে, বহু শ্রমিকের বিশেষ করে নাম, বয়স, জন্মতারিখ বা বাবার নামের মতো তথ্য আধার কার্ড ও পিএফ অ্যাকাউন্টে দুরকম। আধার তথ্য সংশোধনের জন্য ২০১৯ সাল থেকে বাগানগুলিতে বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারির পর এবারের অগাস্টে এরকম শিবির হয়। বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে আরও শিবির প্রয়োজন।