বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হলেও কেন্দ্রের অনুমতির অপেক্ষায় খোলেনি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট

327

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্য চালু হয়েছে। কিন্তু এখনও অবধি সীমান্তের ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলি দিয়ে পাসপোর্টধারী মানুষের যাতায়াত শুরু হয়নি। করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রায় চার মাস সময় ধরে এইসব চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে রয়েছে।

কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়েও বর্তমানে যাত্রী পারাপার হচ্ছেনা। ইমিগ্রেশন দপ্তর সূত্রেই জানাগেছে, চেকপোস্ট বন্ধ থাকলেও ভারতে আটকে পড়া নাগরিকদের বিশেষ অনুমতি দিয়ে চ্যাংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু ওপার থেকে কোনও যাত্রী ভারতে আসতে পারছেন না।

- Advertisement -

পাসপোর্ট নিয়ে গিয়ে ওইদেশে বেশকিছু ভারতীয় নাগরিক আটকেও রয়েছে।তারাও ভারতে ফেরার জন্য বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এদিকে চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রীপারাপর বন্ধ থাকায় চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের বেশকিছু মানুষ সমস্যায় পড়ে গেছেন। তারা জানিয়েছেন, যাত্রী পারাপার হলে এখানে মুদ্রা বিনিময়ের কাজ চলে।

অনেক শ্রমিক এবং বেকার যুবকও এই কাজের সাথে জড়িত। বর্তমানে তাদের অনেকের আয় বন্ধ হয়ে রয়েছে।এই অবস্থায় প্রায় একশদিন পর গত বুধবার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য চালুর পর তারাও আশাবাদী ছিলেন যে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি নিয়ম মেনে এই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়েও যাত্রী পারাপার চালু হবে। কিন্তু সেটা না হওয়ায় হতাশ তারা।

চ্যাংরাবান্ধা মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রকমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, লকডাউনের কারণে এই চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার টানা বন্ধ হয়ে রয়েছে। এতে অনেক মানুষ বিপাকে পড়েছেন। আয় বন্ধ হয়ে রয়েছে।কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেটাও স্পষ্ট নয়।

তবে প্রশাসনসূত্রেই জানাগেছে, কেন্দ্র থেকে নির্দেশ না আসা অবধি এইসব চেকপোস্ট দিয়ে আগেরমত স্বাভাবিক যাত্রী পারাপার চালু হবার কোনওরকম সম্ভাবনা নেই। তবে শুধু চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন নয় অন্য রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত চেকপোস্ট গুলি দিয়েও যাত্রীপারাপর বন্ধ হয়ে রয়েছে। যদিও এবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে কোচবিহারের জেলাশাসক পবন কাদিয়ানের নিকট চ্যাংরাবান্ধা চেকপোস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অবশ্য জানিয়েছেন, অন্য রাজ্যে যেভাবে চলছে এখানেও সেইভাবেই চলছে।