রাজনীতির ছড়া বেঁধেই জনপ্রিয় সোমাপাড়ার সত্তরের অমল

90

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : ভেজাল রাজনীতি ও সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে ছড়া বাঁধলেন প্রাক্তন সিপিএম নেতা। তাতে তিনি সমালোচনা করেছেন এখনকার নেতাদেরও। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে তাঁর সেই ছড়া কেউ আপলোড করে দিতেই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দুবারের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য অমল ভগতের ওই সৃষ্টি। নাগরাকাটার সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সোমাপাড়ার মধ্য সত্তরের অমলবাবু ছড়ায় বলেছেন, আঠার মতো আটকে ধরে/ ভরে জগৎটাকে/খাদ্যে ভেজাল-নেতাও ভেজাল/ ভেজাল জাত বেজাতে। তাঁর সংযোজন, মাস্টারিতে চলছে ভেজাল/ ভেজাল  পরীক্ষাতে/ নকল করে নিচ্ছে ডিগ্রী/ ভেজাল স্বামী-স্ত্রীতে।

এলাকায় তিনি দু’বার ও তাঁর প্রয়াত স্ত্রী রাধা ভগৎ এক বারের গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। টানা কয়েক দশকের দাপুটে ওই সিপিএম নেতার এখন আর রাজনীতিতে আগ্রহ নেই। নীতিহীনতা ও দুর্নীতি তাঁকে পীড়া দেয়। বাড়ির দাওয়ায় বসে বলেন, সব কিছুই ভেজাল হয়ে গিয়েছে। যে আদর্শকে সামনে রেখে রাজনীতি করতাম সেসব আর কোথায়! খুব কষ্ট পাই। সেটাই ছড়া আকারে নিজের কাছের লোকেদের বলি। তিনি আরও বলেন, কানে আসে এখন কাউকে সরকারি বাড়ি পেতে গেলে নেতাদের টাকা দিতে হয়। আমার সময় কত লোককে বাড়ি দিয়েছি। একটা টাকাও কারও কাছ থেকে কখনও নিইনি। তবে হ্যাঁ, কেউ খুশি হয়ে সুলকাপাড়া বাজারে চা-সিঙারা খাওয়ালে খেয়েছি।

- Advertisement -

মুখে মুখে ছড়া তৈরির অভ্যেস অমল ভগতের বহু আগে থেকেই। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলেন, সাড়ে তিন ক্লাস পাশ। বিষয়টি খোলসা করে জানতে চাইলে জবাব মেলে, গ্রামের সরকারি প্রাইমারি স্কুলে তৃতীয় থেকে চতুর্থ শ্রেণিতে ওঠার পর মাস ছয়েক পরেই দারিদ্র‌্যের জন্য আর স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাবার সঙ্গে কাজে যাওয়া শুরু করি।

য়ে এলাকায় অমলবাবুদের বাড়ি সেই এলাকাটি তাঁর বাবা সোমা ভগতের নামে। পাঁচ পুরুষ ধরে একই ভিটেয় বাস করছে পরিবারটি। ভোটে বিভিন্ন দল ও নেতাদের  হাজারো প্রতিশ্রুতি যে স্রেফ কথার কথা সেটা নিয়ে ছড়া বেঁধেছেন তিনি। জানতে চাইলে লাজুক হেসে বলেন, কুকুর করে ঘেউ ঘেউ/ হাতি দিলো ধাওয়া/ পার্টির কোন বিচার নাই/ পাবলিক খায় হাওয়া। বয়স ৭৫-এ ঠেকলেও এখনও বার্ধক্য ভাতা পান না। সেজন্য অবশ্য কাউকে দোষারোপ করেন না। বাপ-ঠাকুরদা যে জমি জমা রেখে গিয়েছেন সেটাতেই চাষবাস করে চলে।

তেভাগার আন্দোলন চাক্ষুষ করা অমলের রাজনীতির হাতেখড়ি অবশ্য নাগরাকাটার প্রবাদপ্রতীম কংগ্রেস নেতা রথীন দে-র কাছে। পরে নীতি ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। কংগ্রেসে থাকাকালীন সেসময়ে এলাকার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী দুই সিপিএম নেতা আশু সরকার, বীরসেন কুজুর সহ তিনবারের বিধায়ক পুনাই ওরাওঁকে-ও নিজের ছড়াতে রেয়াত করেননি তিনি। সে সময়ে তৈরি, আশু-বীরসেনের পাকা বাড়ি/ পুনাই করে বিয়ে / লাল পার্টি জিতলে পরে/ ঠুকবে মার্তুল দিয়ে