‘বহিরাগতকে প্রার্থী করলে পরিণাম ভয়ংকর হবে’ ব্যানারে ছয়লাপ জামালপুর বিধানসভা

154

বর্ধমান: ভোট ঘোষনা হওয়ার পরেও জারি রয়েছে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান। এরই মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোকে চুড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে ব্যানার ও ফ্লেক্সে ছয়লাপ হল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর। বুধবার রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে ‘বহিরাগত’ বদলে ‘ভূমিপুত্রকে’ প্রার্থী করার দাবিতে ব্যানার ও ফ্লেক্সে দাবি তোলা হল জামালপুর এলাকায়। ঘটনায় যথেষ্ট বিড়ম্বনা তৈরি হয়েছে জোড়াফুল শিবিরে। বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে পিছু পা হননি বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘বিনাশ কালের’ সূচক বলেই দাবি করেছেন।

জামালপুর বাজার, বাসস্ট্যান্ড সহ বেশকিছু জায়গায় ব ব্যানার ও ফ্লেক্সে তৃণমূল সুপ্রিমোর ছবি যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক। কয়েকটি ব্যানারে যে বক্তব্য লেখা রয়েছে তা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যানারে লেখা রয়েছে , ‘পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর বিধানসভার নাগরিকরা ডিটেনশন ক্যাম্পের বাসিন্দা নন। তাই বলছি এখনও সময় আছে প্রার্থীর নাম ঘোষনার আগে তৃণমূলের নেতারা সাবধান হন। এবারও যদি বহিরাগত কাউকে জামালপুর বিধানসভায় প্রার্থী করা হয় তবে পরিণাম ভয়ংকর হবে। ভোটের দিন সাপ লুডো খেলা খেলে দেবে জামালপুরের জনগন।‘ আবার অন্য ফ্লেক্স ও ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘জামালপুরবাসীর একটাই রায় জামালপুর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভূমিপুত্র প্রার্থী চাই।’ পাশাপশি এইসব ব্যানারগুলির নীচের অংশে লেখা রয়েছে, “সৌজন্যেঃ জামালপুর বাসী“।

- Advertisement -

জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, ‘দলের কর্মী ও সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরেই জামালপুরের ‘ভূমিপুত্রকে’ প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে আসছিল। সেই দাবির বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যেই কেউ হয়তো এমন ব্যানার ও ফ্লেক্স ঝুলিয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, জামালপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শ্রীমন্ত রায় বলেন, ‘‘ব্যানার ও ফ্লেক্সে ’বহিরাগত’ তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যেতে পারে এটা বিজেপির কাজ। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপির লোকজনই ’বহিরাগত প্রার্থী’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিক্ষোভ ছড়াতে চাইছে।’ অভিযোগ অস্বীকার করে জামালপুর বিধানসভার বিজেপি কনভেনার জীতেন ডকাল বলেন, ‘দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মোদিজি, অমিত শা ও নাড্ডাকে বহিরাগত বলছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর এইসব ফ্লেক্স ও ব্যানারই আসলে তৃণমূলের ’বিনাশ কালের পরিচায়ক’।