জলের তলায় আমন ধানের খেত, ভাঙছে কৃষি জমি

232

সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: টানা বৃষ্টিতে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের হাজার হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকরা গত মাসে আমন ধানের বীজতলা জলের তলায় ডুবে যাওয়ায় প্রথম ধাক্কা খান। সেই ধাক্কা কাটিয়ে দ্বিতীয়বার বীজতলা তৈরি করে অনেকেই ধানের চাষ করেন। এখন সেই ধানখেত কোথাও কোথাও ৭-৮ দিন ধরে জলে ডুবে থাকায় ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। এদিকে একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কোথাও নদী, আবার কোথাও নালার জলের তোড়ে বিঘার পর বিঘা কৃষি জমি ভাঙতে শুরু করেছে। এজন্য অনেকেই চাষাবাদ করতে পারছেন না। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে এই ব্লকের কৃষকরা উদ্বিগ্ন।

ব্লকের বাসিন্দা জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, ‘ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এজন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’ কৃষি দপ্তরও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনায় কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

- Advertisement -

এই ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি, বালাসুন্দর এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা ধানখেত সাতদিন ধরে জলে ডুবে রয়েছে। এলাকার কৃষক নীলকমল সরকার বলেন, ‘ধান লাগাতে এখনও পর্যন্ত প্রতি বিঘায় সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন জলে ডুবে থাকায় পুরো ধানখেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’ ঝন্টু সরকার, অরবিন্দ বালো, সুভাষ সরকার, সুনীল সরকার জানান, তাঁরা বিষয়টি লিখিতভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে জানিয়েছেন। আবার কিছু এলাকায় বুড়িতোর্ষা নদীর জলের ধাক্কায় বহু কৃষি জমি ভাঙতে শুরু করেছে। ধনেশ বর্মন, মানিক বর্মন, কৃষ্ণ বর্মন, গোপাল বাগচির মতো কৃষকদের জমি ভেঙেছে।

জলের তলায় আমন ধানের খেত, ভাঙছে কৃষি জমি| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সরোদিনি বর্মন বলেন, ‘বিষয়টি জানি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের চেষ্টা করা হচ্ছে।’ এদিকে শালকুমারহাটের সিধাবাড়ি মৌজায় একটি ক্যানেলের জলের ধাক্কায় মাটির বাঁধ ভেঙেছে। সেখানে প্রায় আড়াইশো বিঘা কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরেই জলমগ্ন। কৃষকরা এজন্য চাষাবাদ করতে পারছেন না।

স্থানীয় ডাপ্লাং কার্জি, সৃজেন কার্জি জানান, ভাঙন প্রতিরোধে পদক্ষেপ করা না হলে তাঁরা আর কৃষিকাজ করতে পারবেন না। এই প্রসঙ্গে শালকুমার-২ গ্রাম পঞ্চায়েত উপপ্রধান উত্তম কার্জি বলেন, ‘আপাতত সেখানে বাঁশের পাইলিং করা হবে। বর্ষার পর বোল্ডার বাঁধ করার দাবি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’

পাতলাখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব সিমলাবাড়িতে নালার ভাঙনের মুখে পড়েছে বহু কৃষি জমি। অমূল্য বর্মন, কল্যাণ নাথরায় প্রমুখদের জমি ভেঙেছে। বৃষ্টি হলে অনেকের ধান খেতও জলমগ্ন হয়ে পড়ছে৷ কৃষক ধীরেন রায় বলেন, ‘জলে ডুবে থাকায় আমার তিন বিঘা ধান খেত নষ্ট হয়েছে। জল কমলে পুনরায় ধান লাগাতে হবে।’ একই সমস্যা দেখা দিয়েছে চকোয়াখেতি, তপসিখাতা, পররপার, বনচুকামারি সহ অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়। কৃষকদের কাছে বর্ষাকালীন এই ধানের চাষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই প্রতিকূল। গোটা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লক সহ কৃষি অধিকর্তা অজিত রায় বলেন, ‘আমন ধানের খেত ৩-৪ দিনের বেশি জলে ডুবে থাকলে নষ্ট হতে পারে৷ তবে কিছুটা ধান বীজের প্রজাতির উপর তা নির্ভর করবে। বাংলার শস্য বীমার আওতায় থাকা কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন৷ কৃষকরা চাষের জমি ভাঙনের ব্যাপারে জানালে তা সয়েল কনজারভেটিভ দপ্তরের মাধ্যমে পদক্ষেপ করা হবে।’ তবে এবার কৃষিক্ষেত্রে যে ক্ষতি হচ্ছে তা মেনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের বিকল্প চাষের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।’