করোনা রুখতে অমরজিতের আবিষ্কার জাতীয় স্তরে নজর কাড়ল

744

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : বাবা ভ্যানচালক। বাড়িতে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। শিলিগুড়ির সাউথ আম্বেদকর কলোনির দরিদ্র পরিবারের ছেলে অমরজিৎ সাহানি কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশন ইন্ডিয়ার (এনআইএফ) করোনা সংক্রান্ত জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় তাক লাগাল। কম দামে করোনা মোকাবিলার প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করা সহ করোনা থেকে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচার উদ্ভাবনী শক্তির উপর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়েছিল। অমরজিতের স্যানিটাইজার ইন ব্রেসলেট প্রতিযোগিতায় বাছাই হয়েছে। এনআইএফ অমরজিৎকে তার প্রোটোটাইপ আরও উন্নত করার পাশাপাশি তা বাজারজাত করতে প্রয়োজনীয় অনুদানের প্রস্তাব দিয়েছে। এনআইএফের উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের ইনোভেশন অ্যাসোসিয়েশনের পিন্টু হাতি বলেন, জাতীয় স্তরের এই প্রতিযোগিতায় উত্তরবঙ্গ থেকে একমাত্র অমরজিতের প্রোটোটাইপ বাছাই হয়েছে। ওর এই আবিষ্কার দেশের মানুষকে করোনা রোধে শক্তি দেবে বলে আশা রাখছি।

করোনা রুখতে অমরজিতের আবিষ্কার জাতীয় স্তরে নজর কাড়ল| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaকরোনার জেরে সারা বিশ্বের পাশাপাশি ত্রস্ত দেশ। দেশবাসী কীভাবে করোনা থেকে বাঁচবেন তার রাস্তা খুঁজছে সরকার। দেশের মানুষের কাছ থেকে উদ্ভাবনী বুদ্ধি পাওয়ার জন্যই এনআইএফ এই প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করে। এই প্রতিযোগিতায় আটটি বিষয় রাখা হয়। কম খরচে ভেন্টিলেশন মেশিন, কম খরচে পিপিই থেকে পাবলিক প্লেসে ব্যবহার করার মতো সামগ্রী উদ্ভাবন ইত্যাদি। পাবলিক প্লেসে ব্যবহার্য সামগ্রী উদ্ভাবনের বিষযে অমরজিতের স্যানিটাইজার ইন ব্রেসলেট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

- Advertisement -

অমরজি‌ এর আগে বিশেষ ব্যাগ তৈরি করে হিমস ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। ভারতী হিন্দি বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান নিয়ে পাঠরত এই ছাত্রের ছোটবেলা থেকেই আঁকার প্রতি বিশেষ টান। দশম শ্রেণির পরীক্ষায় স্কুলের প্রথম স্থান দখল করা এই মেধাবী ছাত্রের অবশ্য আর্থিক সংকটের কারণে বিজ্ঞান নিয়ে পড়া আটকে যাওয়ার মুখে পড়েছিল। টিউশনের মাধ্যমে প্রাপ্য অর্থের কিছুটা সংসারে, কিছুটা পড়াশোনায় খরচ করে সে এগিযে চলেছে। বিজ্ঞান নিযে পড়া শুরুর পর স্কুল থেকে উত্তরবঙ্গ বিজ্ঞানকেন্দ্রের ইনোভেশন হাবে নিয়মিত যাওয়া থেকেই উদ্ভাবনী বুদ্ধির প্রতি তাঁর ঝোঁক।

অমরজিৎ বলে, স্কুল থেকে একবার ট্যুর করতে গিয়ে বন্ধুদের হাত না ধুয়ে কেক খেতে দেখেছিলাম। সে সময় থেকেই চিন্তাভাবনা। এর মধ্যেই করোনা থাবা বসায়। এনআইএফ আয়োজিত সি-৩ প্রতিযোগিতা জানতে পারার পর ব্রেসলেট প্রোটোটাইপ তৈরির পরিকল্পনা নিই। টায়ার টিউবকেই মাধ্যম করি। টিউবকে ব্রেসলেট হিসেবে ব্যবহার করে দুপাশে গ্রিপ দিযে কব্জির অংশে আঠার বোতলের মুখ আটকাই। ওই মুখে সহজে স্যানিটাইজারের বোতল দিয়ে স্যানিটাইজারও ভরা যাবে। প্রোটোটাইপ জমা দেওয়ার পর এনআইএফের তরফে পাওয়া প্রস্তাব পেয়েছি। উত্তরবঙ্গ  বিজ্ঞানকেন্দ্রের সহযোগিতায় লক্ষ্যের দিকে এগিযে চলেছি।

উত্তরবঙ্গ বিজ্ঞানকেন্দ্রের প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ঋতব্রত বিশ্বাস বলেন, অমরজিৎ যেটা করেছে সেটা জাতীয় স্তরে স্বাভাবিকভাবে খুবই প্রাসঙ্গিক। ওর লক্ষ্যের দিকে এগোতে প্রয়োজনীয় উপাদানের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য আমরা ওর পাশে রয়েছি। আমরা আশা রাখছি খুব তাড়াতাড়ি প্রোটাটাইপটিকে মডিফাই করে বাজারজাত করা যাবে। ভারতী হিন্দি বিদ্যালয়ের টিচার ইন চার্জ সঞ্জীবকুমার ভাওয়াল বলেন, আমরা অমরজিতের জন্য গর্বিত। আশা করছি ভবিষ্যতে আরও সাফল্য পাবে।