সিরামের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে পুনে যাচ্ছেন ১০০টি দেশের রাষ্ট্রদূত

661

মুম্বই : ভারতে করোনা টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আগামী ৪ ডিসেম্বর রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সহ প্রায় ১০০টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও সরকারি প্রতিনিধিরা সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া এবং জেনোভা বায়োফার্মাসিউটিক্যালসের পুনের কারখানায় যাবেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও থাকতে পারেন বলে জানিয়েছেন পুনের ডিভিশনাল কমিশনার সৌরভ রাও। তিনি বলেন, বিদেশি প্রতিনিধিদের ২৭ নভেম্বর আসার কথা থাকলেও পরে সফরের তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল আরেক কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন যে, ভারতে তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে কূটনীতির হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে নরেন্দ্র মোদি সরকার অন্য দেশগুলিকে আকৃষ্ট করতে চাইছে।

আমেরিকান কোম্পানি ফাইজার এবং মডার্না যে এমআরএনএ পদ্ধতিতে তাদের করোনা টিকা বানিয়েছে, সেই একই পদ্ধতিতে টিকা বানাচ্ছে ভারতীয় সংস্থা জেনোভা। ভারতে ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিকাঠামো, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা ও গুণগত মান বজায় রাখার ব্যাপারে যে কোনও আপস করা হচ্ছে না, তা বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার জন্য এই সফর। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধকের বাণিজ্যিক উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে পুনের সিরাম ইনস্টিটিউট। কোভিশিল্ড নাম দিয়ে ওই টিকা তারা তৈরি করছে। এছাড়া নোভাভ্যাক্স নামে আরও একটি করোনা টিকা তৈরির কাজেও তারা হাত দিয়েছে। কোভিশিল্ড টিকার কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে অন্তর্বর্তী ফল থেকে জানা গিয়েছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পুরোপুরি নিরাপদ ও কার্যকর। ফলে ভারতে ওই টিকার উৎপাদন খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, সিরাম ইনস্টিটিউটে টিকার গবেষণা, আনুষঙ্গিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পদ্ধতি, উৎপাদন পরিকাঠামো ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে সম্যকভাবে পরিচিত হতে পুনের গবেষণাগার ও কারখানা পরিদর্শন করবেন দিল্লিতে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার পরিকাঠামো ও আর্থিক ক্ষমতা যা, তাতে তারা ভারতের টিকার চাহিদা মিটিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলিকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী টিকা সরবরাহ করতে পারবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলির জায়গা আরও বাড়ানোই সরকারের উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিশ্বের বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলির বেশিরভাগই ভারতের। তারা গাভি বা ইউনিসেফের মতো সংস্থাগুলির মাধ্যমে নানা ধরনের ওষুধ ও টিকা নিম্ন আয়ের দেশগুলিতে সরবরাহ করে থাকে। করোনা টিকার ক্ষেত্রে সেই প্রয়োজন আরও বেশি। তালিকাভুক্ত ২০টি দেশকে করোনা টিকা সরবরাহের জন্য ৩০০ কোটি ডোজ তৈরি করতে হবে ভারতকে। এর মধ্যে সিরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড ও নোভাভ্যাক্স মিলিয়ে মোট ২০০ কোটি ডোজ তৈরি করতে পারবে। সেই কারণেই করোনা টিকা উৎপাদনের ঠিক আগে ওষুধ কূটনীতির মাধ্যমে মোদি সরকার অন্য দেশগুলির সঙ্গে একটা স্বচ্ছ অবস্থানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর সঙ্গে মার্কিন সংস্থা জনসন অ্যান্ড জনসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১০ কোটি করোনা টিকা তৈরি করবে। হায়দরাবাদের ডক্টরস রেড্ডিজ ল্যাব ১০ কোটি রুশ টিকা (স্পুটনিক ভি) তৈরির বরাত পেয়েছে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউটের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে। এর বাইরে আরও একটি করোনা টিকার (কোভ্যাকসিন) উৎপাদন করছে ভারত বায়োটেক। ওই টিকাগুলি ভারত ছাড়াও লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে সরবরাহের জন্য কথাবার্তা চলছে। সিরাম ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ১০ কোটি এবং ২০২১ সালের এপ্রিলের মধ্যে ৪০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ তৈরি করতে পারবে। বাংলাদেশ সহ পড়শি দেশগুলিতে টিকা সরবরাহ নিয়ে ভারতীয় সংস্থাগুলির কথাবার্তা চলছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বিপন্ন ও দরিদ্র দেশগুলির ২০ শতাংশের কাছে টিকা পৌঁছে দিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে জোট গড়েছে, তার জন্যও টিকা উৎপাদনের কথা ভারতকে ভাবতে হচ্ছে।