দিনহাটা হাসপাতালে চালকের অভাবে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্স

211

প্রসেনজিৎ সাহা,  দিনহাটা : চালকের অভাবে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স। কয়েকবছর আগেও রোগীদের পরিষেবা দিতে এই অ্যাম্বুল্যান্সটি ব্যবহৃত হত। বর্তমানে অ্যাম্বুল্যান্সটি ধুলোর চাদরে মুড়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগের কাছে একটি ঘরে পড়ে রয়েছে। কারণ হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্থায়ী চালক না থাকার সমস্যাটি সামনে এনেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, একসময় মহকুমা হাসপাতালে পাঁচজন স্থায়ী চালক ছিলেন। কিন্তু তাঁরা সবাই গত কয়েক বছরে অবসরগ্রহণ করেছেন। এর ফলে স্থায়ী চালকের সংখ্যা এখন শূন্যতে এসে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর থেকেও নতুন করে কোনও  চালক নিয়োগ করা হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই চালক না থাকায় বর্তমানে অ্যাম্বুল্যান্সটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে চালক পেলে তাঁরা অবশ্যই অ্যাম্বুল্যান্সটি ফের চালাবেন বলে জানিয়েছেন।

কিন্তু অ্যাম্বুল্যান্সটি দুবছর ধরে পড়ে রয়েছে। তারপরও অ্যাম্বুল্যান্সটি নিয়ে প্রশাসন কেন কোনও পদক্ষেপ করেনি-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাসিন্দাদের একাংশের মতে, গর্ভবতীদের জন্য ১০২ অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা থাকলেও অন্য রোগীদের জন্য সেই পরিষেবা নেই। এর ফলে তাঁদের অনেক সময়ই বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করতে হয়। তাই সেক্ষেত্রে যদি হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সটি সচল থাকত-তবে হয়তো অনেকটা কম খরচে রোগীরা পরিষেবা পেতেন। এ বিষয়ে দিনহাটার বাসিন্দা রাকেশ দে বলেন, এর আগে আমার একজন পরিচিতকে রাতে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল থেকে  কোচবিহার মেডিকেলে স্থানান্তর করা হলে অ্যাম্বুল্যান্স পেতে গিয়ে বেশ হয়রানির শিকার হতে হয়। তার ওপর রাত হলেই তাদের চার্জও অনেকটা বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্স থাকলে অনেকটাই নিশ্চিত হওয়া যায়।

- Advertisement -

হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্স যখন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, তখন হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংককর্মীদের রক্ত সংগ্রহে বেসরকারি অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে যেতে হচ্ছে যা নিয়ে ইতিমধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লাড ব্যাংকের নিজস্বই একটি অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়ার কথা যা বিশেষভাবে তৈরি থাকে। কিন্তু দুবছর আগে মহকুমা হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংক তৈরি হলেও সেই বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্স এখনও পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে যদি হাসপাতালে পড়ে থাকা অ্যাম্বুল্যান্সটি ঠিক করে চালক নিয়োগ করে, তাহলে তা ব্লাড ব্যাংকের কাজে লাগানো যেতে পারে। এ বিষয়ে দিনহাটা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সদস্য রতন সাহা বলেন, একটি অ্যাম্বুল্যান্সের অনেক দাম। কাজেই সেটা পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে, এটা মানা যায় না। তাই সেটি ঠিক করে হাসপাতালের পরিষেবার কাজে লাগালে ভালো হবে। সুপার রণজিৎ মণ্ডল বলেন, চালকের অভাবে দুবছর ধরে অ্যাম্বুল্যান্সটি পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।