গাছতলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্স

ফুলবাড়ি : রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গাছের তলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্স। দেখার কেউ নেই। জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে রাজ্যের তৎকালীন বনমন্ত্রী তথা বিধায়ক অনন্ত রায়ের এলাকার উন্নয়ন তহবিলের টাকায় কেনা অ্যাম্বুল্যান্সটি দেওয়া হয়েছিল মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের বড় শৌলমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্যারাডাইস ক্লাব ও পাঠাগারকে। এলাকার মানুষ যাতে সহজে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা পেতে পারেন সেজন্য এটি দেওয়া হয়। কয়েক বছর ধরে বড় শৌলমারির সেই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বর্তমানে অ্যাম্বুল্যান্সটি গাছতলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমছে। সাধারণ মানুষ চাইছেন অ্যাম্বুল্যান্সটি মেরামত করে এলাকায় চালু করা হোক।

জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে অনন্ত রায়ের বিধায়ক তহবিলের অর্থানুকূল্যে অ্যাম্বুল্যান্স প্রদানের পর ২০১২ সাল থেকে চুক্তিতে সেটি চালানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন সিঙ্গিজানি এলাকার জনৈক মিলন বর্মন। কিন্তু মিলনবাবুর সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের ঝামেলা হয়। মিলনবাবুর কাছ থেকে অ্যাম্বুল্যান্সটি নিয়ে নেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তারপর ২০১৭ সাল থেকে সেটি চালানোর দায়িত্ব পান ক্লাব সদস্য সুরঞ্জন বর্ধন। বর্তমানে সুরঞ্জনবাবুর বাড়ির পাশেই একটি গাছতলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে অ্যাম্বুল্যান্সটি। সুরঞ্জনবাবু বলেন, আমি কিছুদিন অ্যাম্বুল্যান্সটি চালিয়েছিলাম। কিন্তু সেটির কোনও কাগজপত্র ঠিক নেই। সেটির টায়ার ও কাঠামো ভালো ছিল না। সেই কারণে আমি আর চালাতে পারিনি। বিষয়টি ক্লাবের সভাপতি জয়ন্ত দে-কে জানানো হয়েছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল অ্যাম্বুল্যান্সটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু নেওয়া হয়নি। গাছতলায় পড়ে থেকে সেটি নষ্ট হচ্ছে।

- Advertisement -

প্যারাডাইস ক্লাব ও পাঠাগারের বর্তমান সভাপতি জয়ন্ত দে বলেন, আমাদের নতুন কমিটিকে অ্যাম্বুল্যান্সের কোনও কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। কোনও কাগজপত্র আছে কি না তা পূর্বতন কমিটি ভালো বলতে পারবে। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে ক্লাবের সদস্যদের কাছে সুরঞ্জনবাবু অ্যাম্বুল্যান্সটি চালাতে চান। পরে ক্লাবের তরফে প্রতিষ্ঠালগ্নের সম্পাদক হরিপদ বর্ধনের পরামর্শে অ্যাম্বুল্যান্সটি চালানোর জন্য সুরঞ্জন বর্মনকে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে একটি শর্ত ছিল, তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সটি সংস্কার করে চালাতে হবে। তার জন্য ক্লাবের তরফে তাঁকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন চালানোর পর সুরঞ্জনবাবু সেটি বাড়িতে ফেলে রাখেন। জয়ন্তবাবু বলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ সুরঞ্জন বর্ধনকে বারবার ক্লাবে মিটিংয়ে তলব করলেও তিনি ক্লাবের কোনও মিটিংয়ে যোগ দেননি। বিষয়টি তাঁর কাকা তথা ক্লাবের প্রতিষ্ঠালগ্নের সম্পাদক হরিপদ বর্ধনকে জানানো হয়। সুরঞ্জনবাবুর বাড়ির পাশে অ্যাম্বুল্যান্সটি পড়ে থাকা অবস্থায় তার বেশ কিছু যন্ত্রাংশ গায়েব হচ্ছে।

জয়ন্তবাবুর অভিযোগ, ২০১৮ সালে একটি ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল ক্লাবের দল। সেখান থেকে পাওয়া ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন সুরঞ্জনবাবু। সুরঞ্জনবাবুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। সেইসঙ্গে গাড়িটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে, জয়ন্তবাবুর সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সুরঞ্জনবাবু। তিনি বলেন, ঘোকসাডাঙ্গা থানার তরফে কোচবিহার চা বাগানের মাঠে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকে ক্লাবের ফুটবল দলকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকায় ক্লাবের খেলোয়াড়দের বুট ও জার্সি কিনে দেওয়া হয়েছিল। এতে ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছিল। আমি নিজে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। হরিপদ বর্ধন জানান, কাগজের অভাবে অ্যাম্বুল্যান্সটি চালানো যায়নি। তাই গাছতলায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ক্লাবের সদস্যদের নিয়ে আলোচনায় বসা হবে। কীভাবে সেটি চালানো যায় তা নিয়ে আলোচনা হবে। পঞ্চায়েতের প্রধান মহাদেব বিশ্বাস বলেন, অ্যাম্বুল্যান্সটির বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।