শিলিগুড়ি পুরনিগমের অ্যাম্বুলেন্স এখন মালবাহী গাড়ি

170

শিলিগুড়ি : বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের টাকায় শিলিগুড়ি পুরনিগমের স্বাস্থ্যবিভাগের জন্য কেনা অ্যাম্বুলেন্স এখন যেন মালবাহী গাড়ি। পুরনিগমের স্বাস্থ্যবিভাগের ওষুধপত্র থেকে শুরু করে নানা সামগ্রী আসে ওই অ্যাম্বুলেন্সে করেই। স্বাস্থ্যবিভাগের চিকিত্সক থেকে কর্মী, বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই অ্যাম্বুলেন্সে চেপেই যাতায়াত করেন প্রতিদিন। কেন এমন হল? পুরনিগম এলাকায় মাতৃসদন সহ পুরনিগমের পরিচালনাধীন যে কটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে সেখানে কি তবে ওই অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন নেই? এখনও শিলিগুড়ি শহরে প্রচুর গরিব মানুষ অর্থের অভাবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা নিতে পারেন না। কষ্ট করে  রিকশা কিংবা টোটোয় চেপে পুরনিগমের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে যেতে বাধ্য হন। অথচ অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। শিলিগুড়িতে আধিকারিক থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি কিংবা পুরনিগমের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে নতুন গাড়ি কেনা কিংবা ভাড়া নেওয়া হয়। অথচ শুধু স্বাস্থ্যবিভাগের কাজের জন্যই একটি গাড়ি কেন দেওয়া হয় না, উঠেছে সেই প্রশ্ন। কেনই বা হেল্থ অফিসারকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাঝেমধ্যে যাতায়াত করতে হবে?

অশোক ভট্টাচার্যের বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের অর্থে শিলিগুড়ি পুরনিগমের স্বাস্থ্যবিভাগের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনা হয়েছিল কয়ে বছর আগে। প্রথম প্রথম অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগীদের আনা-নেওয়া করা হলেও এখন সেসব অতীত। শিলিগুড়ি পুরনিগমের স্বাস্থ্যবিভাগের অধীনে থাকা ওই অ্যাম্বুলেন্সে এখন লোক যাতায়াত করে। সঙ্গে থাকে বড়ো বড়ো ওষুধের কার্টন, ফ্লেক্স, লিফলেট সহ স্বাস্থ্যবিভাগের বিভিন্ন সামগ্রী। অথচ ওই অ্যাম্বুলেন্স যে ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে তাও নয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও শুধুমাত্র স্বাস্থ্যবিভাগের চরম গাফিলতির কারণে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে পারেন না যাঁদের প্রযোজন, তাঁরা। অথচ শহরের প্রচুর গরিব মানুষ রয়েছেন, যাঁদের কম পয়সায় ওই অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা দেওয়া গেলে তাঁরা বাস্তবিকই উপকৃত হতেন। কিন্তু সেই পরিসেবা দেওয়ার ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পুরনিগম সূত্রে খবর, পুরনিগমের স্বাস্থ্যবিভাগের অধীনে থাকা অন্তত একটি অ্যাম্বুলেন্স গরিব মানুষের প্রযোজনে ব্যবহার করা য়ায় কিনা তার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। তবে শিলিগুড়ি পুরনিগমের অ্যাম্বুলেন্স য়ে মালপত্র দেওয়া-নেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয় সেটা জানা নেই ওই বিভাগের মেয়র পারিষদ শংকর ঘোষের। তাঁর বক্তব্য, এটা আমি কোনোদিন শুনিনি। তবে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয়ই খোঁজখবর নেব। যদিও ইতিমধ্যেই পুরনিগমের অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্যাটাস জানতে চেয়েছি। সেই রিপোর্ট আসার পরই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।