এক বছর অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা বন্ধ, রোগী নিয়ে যেতে সমস্যা

170

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : কোচবিহার-১ ব্লকের প্রত্যন্ত পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্সটি বছরখানেক যাবৎ বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে পরিষেবা না পেয়ে রোগী নিয়ে হিমসিম অবস্থা ওই এলাকা সহ পাটছড়া, চান্দামারি এবং ফলিমারির প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দার। এলাকার কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে পরিবারের কালঘাম ছুটছে। এ বিষয়ে বহুবার প্রশাসনের দুয়ারে দরবার করেও কোনও ইতিবাচক ফল মেলেনি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। স্বভাবতই ক্ষোভ জমেছে তাঁদের মধ্যে।

২০০৮ সালে তৎকালীন ৬ নম্বর পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক অক্ষয় ঠাকুর এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়ে কর্তৃপক্ষকে অ্যাম্বুল্যান্সটি দিয়েছিলেন। তারপর থেকে বিস্তীর্ণ এলাকাবাসী এর পরিষেবা পাচ্ছিলেন। কিন্তু, বছরখানেক যাবৎ অ্যাম্বুল্যান্সটি বেহাল হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় চত্বরেই পড়ে থাকায় এর পরিষেবা মিলছে না। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর ইসলাম বলেন, এলাকার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল এবং গোসানিমারি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হিমসিম খাই। আগে ওই অ্যাম্বুল্যান্সের পরিষেবা থাকায় রোগী নিয়ে যেতে সমস্যা হত না।

- Advertisement -

এলাকার আরেক বাসিন্দা মিঠু সরকার বলেন, এখন এলাকার কোনও রোগীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে গোসানিমারি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অ্যাম্বুল্যান্সের ওপর ভরসা করতে হয়। ফলে, বেশিরভাগ সময়ে অ্যাম্বুল্যান্স দেরিতে আসায় রোগীর অসুস্থতা বেড়ে যায়। কখনও বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে রোগীকে নিয়ে যেতে হয়। অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু থাকলে সুবিধা হত। এ বিষয়ে কেটারহাট এলাকার শিক্ষক তথা স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশচন্দ্র সরকার ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ এই অ্যাম্বুল্যান্সটি বেহাল হয়ে থাকলেও প্রশাসন উদাসীন রয়েছে।  এ বিষয়ে পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আলোনা ইয়াসমিন বলেন, পুরোনো ওই অ্যাম্বুল্যান্সটি সারাতে আমরা সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু এর জন্য বিস্তর অর্থ প্রয়োজন। গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমিত তহবিল থেকে সেটা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন বা কোনও জনপ্রতিনিধি নতুন অ্যাম্বুল্যান্স দিলে এলাকাবাসী উপকৃত হবেন বলে তিনি জানান। স্থানীয় বিধায়ক সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে বলেন, আমি নিজে অনেক গ্রাম পঞ্চায়েতে অ্যাম্বুল্যান্স দিয়েছি। কিন্তু এক্ষেত্রে অ্যাম্বুল্যান্স পরিচালনায় গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনও সদর্থক ভূমিকা নেই। ওখানেও তাই হয়েছে। এতে মূল উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হয়। অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার বিষয়ে কোচবিহার-১এর নবনিযুক্ত বিডিও নৃপেন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও ইস্যুতেই সংবাদমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। ফলে আদৌ এই অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালু  হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেল।