রোগী নিয়ে রেলগুমটিতে আটকে থাকে অ্যাম্বুল্যান্স

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শহরে সংকীর্ণ রাস্তা, যত্রতত্র পার্কিং এবং ফুটপাথ দখল যানজটের অন্যতম কারণ। একইভাবে শহরের দুটি রেলগুমটিও যানজটের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কোনও কোনও সময় ট্রেন চলে যাওয়ার পরে প্রায় আধ ঘণ্টা সাধারণ মানুষকে যানজটে আটকে থাকতে দেখা যায়। দুটি রেলগেটই শহরে ঢোকার দুটি রাস্তার মুখে থাকায় বাস, ছোট যাত্রীবাহী গাড়ির পাশপাশি মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সম্প্রতি সমস্যা মেটাতে কিছুটা হলেও উদ্যোগী হয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। দুটি রেলগেটের দুপাশের রাস্তার মাঝবরাবর স্প্রিং পোস্ট এবং গার্ডরেল দিয়ে ওয়ান ওয়ে করে সাময়িক সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যার পাকাপাকি সমাধান করতে গত কয়েক বছরে রেল, পুরসভা, জেলা প্রসাশন এবং শাসক-বিরোধী কোনও রাজনৈতিক দলকেই উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি।

তিন নম্বর গুমটির রাস্তাটি মূলত শহরের মহামায়াপাড়া, পান্ডাপাড়া, অশোকনগর, আদরপাড়ার বাসিন্দারা ব্যবহার করেন। এছাড়াও সংলগ্ন খড়িয়া, মণ্ডলঘাট, বোয়ালমারি নন্দনপুর, বেরুবাড়ির পাশাপাশি কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি যাতায়াতের ক্ষেত্রে এটিই একমাত্র রাস্তা। এই এলাকাগুলিতে যাতায়াতকারী বাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছোট গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। অপরদিকে চার নম্বর গুমটির রাস্তা দিয়ে ডাঙ্গাপাড়া, শোভারহাট, অরবিন্দ, বাহাদুর, গড়ালবাড়ি, চাউলহাটি এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। এমনকি কদমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হয়ে শিলিগুড়ি রুটের বাসগুলি এই রাস্তায় যায়। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন হয়ে দিনে তিন জোড়া লোকাল ট্রেন, দুটি এক্সপ্রেস ট্রেন এবং সপ্তাহে তিনদিন করে একটি এক্সপ্রেস ট্রেন যাতায়াত করে। এছাড়াও মাঝেমধ্যে কিছু মালগাড়ি যাতায়াত করে এই রুটে। করোনা আবহ শুরু হওয়ায় এখন সমস্ত ট্রেন যাতায়াত একপ্রকার বন্ধ। যে কারণে গত ছয় মাস ধরে রেলগুমটির যানজট সমস্যা থেকে কিছুটা নিস্তার পেয়েছেন শহরবাসী।

- Advertisement -

কিন্তু আগামী কয়েক মাসে রেলগুমটির যানজট যে আরও বড় আকার নেবে, তা বুঝে গিয়েছেন বাসিন্দারা। কারণ শীঘ্রই নিউ জলপাইগুড়ি থেকে এই রুট হয়ে হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুট বলে পরিচিত এই রেলপথের পরিকাঠামো তৈরির কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষ। যাত্রীবাহী ট্রেন না চললেও এই রুট দিয়ে যে বহু পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশ যাবে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই রেলপথে চলা ট্রেন, বিশেষত মালগাড়ির সংখ্যা বাড়লে রেলগুমটির যানজটও বাড়বে বলে আশঙ্কা বাসিন্দাদের। পান্ডাপাড়া এলাকার বাসিন্দা কলেজ ছাত্রী শ্রেয়া মণ্ডল বলেন, এখন ট্রেন বন্ধ থাকায় তিন নম্বর গুমটির যানজট থেকে নিস্তার পেয়েছি। কিন্তু যদি এই রুটে বাংলাদেশের ট্রেন যাতায়াত শুরু হয় তাহলে আগের তুলনায় যানজট কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। কাজেই এই সমস্যার পাকাপাকি সমাধানের বিষয়টি প্রশাসনকে এখনই ভাবতে হবে। প্রয়োজনে রেলের সঙ্গে কথা বলে আন্ডারপাস বা উড়ালপুল তৈরি করা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করা দরকার।

শহরের তিন এবং চার নম্বর রেলগুমটি এলাকায় নাগরিকদের তরফে বিভিন্ন সময় আন্ডারপাস বা উড়ালপুল তৈরির দাবি ওঠে। জলপাইগুড়ি পুরসভা তাদের বাজেটেও বেশ কয়েক বছর এই দুই জায়গায় উড়ালপুল তৈরির কথা উল্লেখ করে। কিন্তু সবকিছু পরিকল্পনার স্তরেই শেষ হয়ে যায়। এমনকি বিভিন্ন ভোটেও রাজনৈতিক দলগুলো রেলগুমটিকে ইস্যু বানাতে ছাড়েনি। ভোট চলে গেলে বাস্তবে যে আর কিছুই হয়নি তার সাক্ষী রয়েছেন শহরের মানুষ। দুই রেলগুমটির যানজটের বিষয়ে ওসি ট্রাফিক শান্তা শীল জানান, দুটি রেলগেটের দুপাশে স্প্রিং পোস্ট এবং গার্ডরেল দেওয়ার পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়ার এবং পুলিশকর্মী দেওয়া রয়েছে। যে সময় ওই গুমটি দুটো দিয়ে ট্রেন যায় তখন যানজট দ্রুত স্বাভাবিক করতে ট্রাফিকের অফিসাররাও উপস্থিত থাকেন। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের যানজট এড়াতে যে কোনও ধরনের পণ্যবাহী গাড়ি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে।