নদীতে অ্যাম্বুলেন্স ধোয়া হচ্ছে, জলে মিশছে চিকিত্সা বর্জ্য

296

শালকুমারহাট, ৩০ অক্টোবর : ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের সীমানা বরাবর বয়ে যাওয়া বুড়িতোর্ষা নদীতে দূষণের মাত্রা দিনদিন বাড়ছে। কিছুদিন আগেই ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের বুড়িতোর্ষা কাঠের সেতুর পাশেই নদীর পাড় ঘেঁষে খাটা পায়খানা তৈরি করেছিল মহাসড়কের কাজে যুক্ত কয়েকজন শ্রমিক। সেই খাটা পায়খানাটি এখনও ভাঙা হয়নি। এদিকে, নতুন করে সেতুর পাশে নদীতে অ্যাম্বুলেন্স নামিয়ে ধোয়া হচ্ছে। ফলে গাড়ির তেল, মবিলের পাশাপাশি নানা ধরনের চিকিত্সা বর্জ্যও নদীর জলে মিশে যাচ্ছে। ফলে নদীর জলে সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই এভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও অন্য যানবাহন নদীর জলে ধোয়া হয়। ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা। বুড়িতোর্ষা নদী বাঁচাতে প্রশাসনের নজরদারির দাবিও তুলেছেন তাঁরা। পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য যানবাহন চালকদের সচেতন হওয়া উচিত। দূষণের কবল থেকে বুড়িতোর্ষা নদীকে বাঁচাতে শীঘ্রই পরিবেশপ্রেমীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ডেপুটি সিএমওএইচ-২ বলেছেন, এ ব্যাপারে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সতর্ক করা হবে।

আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ফালাকাটা থেকে সোনাপুর দিয়ে জাতীয় সড়ক হয়ে প্রতিদিনই রোগী নিয়ে যায় অ্যাম্বুলেন্স। আবার জেলা হাসপাতাল থেকে দিনরাত অ্যাম্বুলেন্সে রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। এছাড়া এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে নিশ্চয়য়ান। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীদের নামিয়ে ফেরার পথে খালি অ্যাম্বুলেন্সগুলি বুড়িতোর্ষা নদীতে নামিয়ে ধোয়া হচ্ছে। আবার কখনও জেলা হাসপাতাল থেকে ফালাকাটায় ফেরার পথে রোগী ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সগুলিও এই নদীর জলে ধুয়ে নেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও মাঝেমধ্যেই ছোটো যাত্রীবাহী গাড়ি, টোটো, অটো, মোটরবাইক, ট্র‌্যাক্টরও বুড়িতোর্ষা নদীতে নামিয়ে ধোয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, বছর দশেক আগেও বুড়িতোর্ষা নদীর চেহারা ছিল অন্যরকম। বর্ষা ও বছরের নানা সময়ে এই নদীতে নানা নদীয়ালি মাছ পাওয়া যেত। এখন নানাভাবে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নদীর অস্তিত্বই সংকটে পড়েছে। এখন নদীতে কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান জল।

- Advertisement -

জাতীয় সড়কের কাঠের সেতুর পাশে হাঁটুসমান জলেই বুধবার সকালেও কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ধোয়া হয়। রাতে ওই অ্যাম্বুলেন্সগুলি আলিপুরদুয়ার থেকে রোগী নিয়ে যায় শিলিগুড়ি। এভাবে গাড়ি ধোয়ায় বুড়িতোর্ষা নদীর দূষণ দিনদিন বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা। সবুজ পৃথিবী নামে একটি সংস্থার সম্পাদক সুজিত সরকার বলেন,দূষণে জেরবার এই নদী। এদিন যেভাবে নদীর জলে অ্যাম্বুলেন্স ধোয়ামোছা করা হয় তাতে গাড়ির নোংরা সহ চিকিত্সা বর্জ্যও জলে মিশে গিয়েছে। এসব বন্ধ হওয়া উচিত। শালকুমারহাটের পরিবেশপ্রেমী কানাইলাল দাস বলেন, ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কে থাকা বুড়িতোর্ষা সহ আরও পাঁচটি নদী নানাভাবে দূষণের কবলে পড়েছে। অল বেঙ্গল নিশ্চয়যান সংগঠনের আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক পরিমল রায়ের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে চালকরা হাসপাতাল চত্বর বা বাড়িতেই অ্যাম্বুলেন্স ধোয়ামোছা করেন। তবু নদীতে যেন কেউ অ্যাম্বুলেন্স ধোয়ামোছা না করেন সে ব্যাপারে চালকদের সচেতন করা হবে।