পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরোধিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী, তোপ অমিতের

69

কলকাতা: বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিগিং রুখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নির্বাচনের কথা বলতেন। আর এখন রিগিং করতে পারছেন না বলেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরোধিতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার দক্ষিণ কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে ঠিক এভাবেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুষলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘পরাজয় নিশ্চিত বুঝে হতাশা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করেছেন।’

অমিত শা’র অভিযোগ করেন, হতাশা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা খুশি বলছেন। নির্বাচনের সময় কাজ করা কেন্দ্রীয় বাহিনী কখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকে না। নির্বাচন কমিশনের অধীনেই তারা কাজ করে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার চেতলা থানায় ঢুকে বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। তাঁরা চান, এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। আর এবিষয়ে বিজেপির তরফে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

- Advertisement -

কংগ্রেস প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে অমিত শা জানান, আসলে কংগ্রেসের কোনও নীতি আছে বলে তাঁরা মনে করেন না। তাঁর মতে, কেরলে কংগ্রেস সিপিএমের বিরোধিতা করছে, আর এ রাজ্যে তাদের সঙ্গেই জোট বেঁধে নির্বাচনে লড়াই করছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, কংগ্রেসের দ্বিচারিতার জেরেই এ রাজ্যের মানুষের মন থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছে কংগ্রেস।

অমিত শা আরও বলেন, বাংলার উন্নয়ন কংগ্রেস-সিপিএম-তৃণমূল করতে পারবে না। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল জামানায় বাংলা সবথেকে বেশি পিছিয়ে পড়েছে। এছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার উন্নয়নের চেয়ে অনুপ্রবেশ নিয়ে বেশি ব্যস্ত। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত দিনে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে কমকরে তিনবার অনুপ্রবেশ নিয়ে সংসদ গরম করেছিলেন। আর আজ তিনি সেই ভোট ব্যাংকের জন্য অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যে শরণার্থীদের স্থায়ী নাগরিকত্ব যেমন দেওয়া হবে, তেমনই সোনার বাংলা গড়বে বিজেপি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলায়  তৃণমূল কংগ্রেসের জামানায়  দুর্নীতির বাড়বাড়ন্ত ঘটেছে। তাই দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়তে বিজেপির ক্ষমতায় আসা বিশেষ প্রয়োজন।

সেই সঙ্গে অমিত শা এদিন ফের জানান, তাঁরা ক্ষমতায় এলে কলকাতা, উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে চা বাগানগুলির জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করবেন। এরাজ্যে ক্ষমতায় এলে কলকাতাকে দ্বিতীয় আর্থিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলবেন তাঁরা।

এদিন অপর এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নাগরিকত্ব বিল নিয়ে এ রাজ্যের সরকার সবথেকে বেশি বিরোধিতা করেছে। তবে তাঁরা ক্ষমতায় আসার পর নাগরিকত্ব বিল এরাজ্যে চালু করার ব্যবস্থা করবেন।

বর্তমানে করোনার প্রকোপ আরও বাড়ছে। আর কেন্দ্রীয় সরকার সেদিকে নজর না দিয়ে করোনার ভ্যাকসিন বিদেশে রপ্তানি করতে তৎপর হয়েছে বলে কংগ্রেসের তরফে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা নস্যাৎ করে অমিত শা বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন প্রতিটি রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তাই এ নিয়ে বিরোধীদের চিন্তার কোনও কারণ নেই।’ তবে করোনার প্রকোপ যে বাড়ছে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার গত ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্যগুলিকে সচেতন করে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও নির্বাচনে যেভাবে বিজেপি থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলি রোড শো করছে তাতে কি করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে না? এ ব্যাপারে করা প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ জানান, নির্বাচন যখন করতে হবে তখন তো হবেই। আর নির্বাচন কবে হবে না হবে সেটা কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করে না, ঠিক করে নির্বাচন কমিশন।

তিনি নির্বাচন কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সংবিধানে টেম্পোরারি সরকার গঠনের কোনও বিকল্প চিন্তাভাবনার কথা উল্লেখ নেই। তাই সংবিধান মেনেই নির্বাচন করতে হবে কমিশনকে। তবে করোনার হাত থেকে বাঁচার জন্য সকলকেই সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে।’

এ রাজ্যে শিল্প নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব যে ঢালাও প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন সে ব্যাপারে করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘শিল্প হবে এ রাজ্যের খালি জমিতে। প্রয়োজনে যদি জমি নিতে হয় তবে তা নেওয়া হবে কৃষকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই। গায়ের জোরে কোনও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না।’