অমিত শা’র মিথ্যা ভাষণে ঘোড়াতেও হাসবে: ব্রাত্য

123

কলকাতা: অমিত শা’র ভাষণ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করল তৃণমূল। এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল বিধায়ক ব্রাত্য বসু জানান, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো যখন চরম দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে সেসময়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং স্বয়ং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এরাজ্যে এসে রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের কথা বলে মিথ্যা ভাষণ দিচ্ছেন। তাদের সেই মিথ্যা ভাষণ শুনে যে ঘোড়াতেও হাসবে বলেও কটাক্ষ করেন ব্রাত্য। গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গঙ্গাসাগরের সমাবেশে যে বক্তব্য রেখেছিলেন তার প্রত্যেকটি তথ্য ধরে ধরে গুজরাটের সঙ্গে এ রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন তিনি।

ব্রাত্য বসু বলেন, ‘অমিত শাহ গতকাল বলে গিয়েছিলেন তাঁরা এরাজ্যে ক্ষমতায় এলে শিক্ষকদের চাকরি ও সম বেতনের নিশ্চয়তা দেবেন। কিন্তু গুজরাটের শিক্ষকেরা নিয়মিত মাইনে পান না। পেনশনও পান না। শুধু তাই নয়, সেখানকার মানুষদের মধ্যে নিরক্ষরের সংখ্যা সবচাইতে বেশি। এছাড়া ওই রাজ্যে বাজেটের ২ শতাংশ ব্যয় করা হয় শিক্ষার জন্য। সেখানে এ রাজ্যে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ করা হয় ৪ শতাংশ। সুতরাং, গতকালকের বার্তা কতখানি হাস্যকর তা সকলেই বুঝতে পারবেন।’

- Advertisement -

স্বাস্থ্য সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজরাটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ হয় ০.৮ শতাংশ। সেখানে এরাজ্যে ব্যয় করা হয় ৪-৬ শতাংশ। গুজরাটে শিশু মৃত্যুর হার সবচাইতে বেশি। ৪৫ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভোগে। সেখানকার ৯৪ শতাংশ শ্রমিক সব চাইতে কম মজুরি পান। আর গুজরাটে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও যদি এই অবস্থা হয় তাহলে এ রাজ্যের বেতন কাঠামো কিভাবে তৈরি করবেন বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।’

নারী অধিকার নিয়ে অমিত শাহের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে ব্রাত্য বলেন, ‘২০১৯ এর নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপি বলেছিল ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হবে। অথচ লুকিয়ে কৃষি বিল সহ একাধিক বিলকে পাশ করিয়ে নেওয়া হলেও মহিলা সংক্রান্ত বিল সংসদের কোনও কক্ষেই পেশ করা হয়নি। বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও কর্মসূচির জন্য কেন্দ্র আগে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও ২০২১ এর বাজেটে সেই ব্যাপারে একটি পয়সাও ধার্য করা হয়নি। অথচ এ রাজ্যে ২০১৩ সাল থেকে চালু হয়েছে কন্যাশ্রী প্রকল্প। ব্যয় করা হয়েছে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সাংসদদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ ও পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে মহিলাদের জন্য।’

কৃষি উন্নয়নের ব্যাপারে অমিত শা’র মন্তব্যকে কটাক্ষ করে ব্রাত্য বসু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করার সময় যারা পাননি তাঁরা আবার কৃষি উন্নয়নের কথা বলেন। ২০২২ এর মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার কথা বলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু কেন্দ্রীয় সমীক্ষা বলছে ২০২৮ এর আগে সেটা সম্ভব নয়। অথচ এরই মধ্যে এ রাজ্যের কৃষকদের আয় তিনগুণ করা হয়েছে। শস্য বীমার ১০০ শতাংশ অর্থ রাজ্য সরকার দিলেও কেন্দ্রীয় শস্য বীমার টাকা কৃষকদেরই দিতে হয়।’