বঙ্গাইগাঁওয়ে কাল অনন্ত মহারাজের সঙ্গে বৈঠক অমিত শার

207
ফাইল চিত্র

কোচবিহার : বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে রাজবংশী ভোট যে ঠিক কতটা নির্ণায়ক ফ্যাক্টর, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে যে ১১ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার কোচবিহারে পরিবর্তন যাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসার আগে অসমের বঙ্গাইগাঁওয়ে সতীবরগাঁও গ্রামে গিয়ে গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজের সঙ্গে আধঘণ্টা বৈঠক করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। বিজেপি সূত্রেই এমন খবর জানা গিয়েছে। মামলায় ওয়ারেন্ট থাকা অনন্ত মহারাজের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের কথা জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিজেপির তরফে কেউ মুখ খুলতে চাননি। তবে কেন্দ্র থেকে অসম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও সিআরপিএফ-এর কাছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যে সফরসূচি পাঠানো হয়েছে, তাতে সতীবরগাঁওয়ের অনন্ত মহারাজের সঙ্গে বৈঠকের উল্লেখ রয়েছে।

আগামী বিধানসভা ভোটে কোচবিহার জেলা সহ উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। অপরদিকে, তৃণমূলও চুপ করে বসে নেই। তারাও ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। সবমিলিয়ে ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে কোচবিহারে খুব কঠিন লড়াই হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে কোচবিহারে বিজেপি-তৃণমূল উভয়পক্ষেরই লক্ষ্য রাজবংশী ভোটের দিকে। কারণ কোচবিহার জেলায় মোট ভোটারের প্রায় ৩৪ শতাংশ রাজবংশী। এই ভোটারদের বড় অংশকে নিয়ন্ত্রণ করেন অনন্ত মহারাজ। বাকি অংশ বংশীবদন বর্মনের নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে বংশীবদন তৃণমূলের দিকে থাকলেও অনন্ত মহারাজ এতদিন বিজেপির সঙ্গেই ছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত লোকসভা নির্বাচনে অনন্তপন্থী গ্রেটারের ভোট বিজেপির দিকে যাওয়ার ফলেই লোকসভা নির্বাচনে তাদের এত ভালো ফলাফল হয়েছে। এই অবস্থায় বিধানসভা নির্বাচনে তাদের ভালো ফলাফল করতে হলে অনন্তপন্থীদের ভোট বিজেপির অবশ্যই প্রযোজন।

- Advertisement -

রাজনৈতিক মহল বলছে, বিজেপি কেন্দ্রে প্রায় সাত বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও অনন্তপন্থী গ্রেটারদের দবিদাওয়ার অধিকাংশই পূরণ হয়নি। ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজবংশীদের একাংশের যথেষ্টই ক্ষোভ জমেছে। এতে অনন্তপন্থী গ্রেটার নেতা-কর্মীদের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বও তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুরু করেন। অনন্তপন্থী গ্রেটারদের নীচুতলার নেতা-কর্মীরা যে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, সে কথা স্বীকার করে নেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ও। এই পরিস্থিতিতে অনন্তপন্থী গ্রেটারদের নিজেদের দিকে ধরে রাখা নিয়ে কোচবিহার জেলা বিজেপির উপর চাপ বাড়তে শুরু করে। সম্প্রতি অনন্ত মহারাজের সঙ্গে তৃণমূলের কিছুটা যোগাযোগ হওয়ায় বিজেপির উপর সেই চাপ আরও বেড়ে যায়। সবমিলিয়ে রাজবংশী ভোট কাছে পেতে অনন্ত মহারাজকে নিয়ে এখন বিজেপি ও তৃণমূল দুই পক্ষের মধ্যে কার্যত দড়ি টানাটানি চলছে। বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ করে কোচবিহারে অনন্ত মহারাজ যে উভয়পক্ষের কাছেই ট্রাম্পকার্ড তা বুঝতে কারও অসুবিধা নেই।

এই পরিস্থিতিতে ১১ ফেব্রুয়ারি কোচবিহারে আসার আগে অসমের বঙ্গাইগাঁওয়ে সতীবরগাঁওয়ে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে বৈঠক করবেন অমিত শা। বিজেপি সূত্রে খবর, ১০ ফেব্রুয়ারি অমিত শা গুয়াহাটিতে নামবেন। রাতে তিনি গুয়াহাটির আমিগাঁওয়ে পিডব্লিউডির গেস্টহাউসে রাত কাটাবেন। পরের দিন সকাল ৯.১০ মিনিটে সেখান থেকে রওনা হয়ে গুয়াহাটি বিমানবন্দরে যাবেন। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে তিনি বঙ্গাইগাঁও রিফাইনারি হেলিপ্যাডে গিয়ে নামবেন সকাল ৯.৫০ মিনিটে। সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে গাড়িতে করে তিনি সতীবরগাঁও গ্রামে যাবেন। জানা গিয়েছে, সেখানে সকাল ১০টা থেকে ১০টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে অনন্ত মহারাজের বৈঠক হবে। বৈঠক শেষে সেখান থেকে গাড়িতে করে ফের তিনি বঙ্গাইগাঁও রিফাইনারি হেলিপ্যাডে এসে হেলিকপ্টারে কোচবিহার বিমানবন্দরে এসে নামবেন সকাল ১১টা ১০ মিনিটে। কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে সোজা তিনি চলে আসবেন মদনমোহন মন্দিরে। ১১টা ৩৫ মিনিটে মদনমোহন মন্দির থেকে বেরিয়ে তিনি রাসমেলা মাঠে যাবেন। সেখানে একঘণ্টা পরিবর্তন যাত্রায় অংশ নিয়ে বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। ১২টা ৪৫ মিনিটে কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন। মূলত রাজবংশী ভোটারদের জন্যই যে শা কোচবিহারে আসছেন, তার ইঙ্গিত মিলেছে মঙ্গলবার কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের কথাতেও। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আমরা হয়তো নারায়ণী সেনার ঘোষণা শুনতে পারব। সবার মতো আমরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।