ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোপ, ভারতে কাজ বন্ধ অ্যামনেস্টির

345

নয়াদিল্লি : ভারত সরকারের সমালোচনা করার খেসারত দিতে হল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে। সরকারি নির্দেশে ভারতে সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হল। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ায় সংস্থাটি কর্মীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মঙ্গলবার অ্যামনেস্টির তরফে জানানো হয়েছে যে, সরকার সংস্থার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে কাজকর্ম গুটিয়ে নিয়েছে এবং ভারতীয় কর্মীদের ছুটি দিয়েছে। সরকারি নির্দেশনামাকে ডাইনি খেদাও-এর সঙ্গে তুলনা করে সংস্থার বক্তব্য, এই পদক্ষেপ বিদ্বেষপ্রসূত। বিশ্ববাসীর মানবাধিকার সুরক্ষা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করাই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মূল কর্মসূচি। গত ১০ সেপ্টেম্বর সংস্থাটি জানতে পারে যে, ভারতে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। সংস্থার ভারতীয় শাখার প্রধান অবিনাশ কুমার মঙ্গলবার বলেন, অন্যায়ের সমালোচনা করা ছাড়া আমরা আর কিছু করি না। এই কারণে আমাদের নিশানা করা হয়েছে। যদিও আমরা কখনও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছি, এরকম কেউ দেখাতে পারবে না।

তাঁর বক্তব্য, গত দুবছর ধরে সংস্থাকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনা প্রত্যাশিতই ছিল। সূত্রের খবর, গত বছরের নভেম্বরে অ্যামনেস্টির বেঙ্গালুরুর অফিসে সিবিআই হানা দেয়। অভিযোগ ছিল, অলাভজনক সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও অ্যামনেস্টি বেআইনিভাবে বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছে। কেন্দ্রীয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও (ইডি) তদন্ত শুরু করে বিদেশি অনুদান নিয়ামক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে। কেন্দ্রীয় সরকারের রোষে পড়ে মানবাধিকার সংস্থার কাজ বন্ধ হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ, দিল্লিতে দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করার জন্যই কি মাশুল দিতে হল অ্যামনেস্টিকে? ভারতে কোনও সংস্থা বিদেশি অনুদান নিতে চাইলে বিদেশি অনুদান নিয়ামক আইনে নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক। নয়াদিল্লির অভিযোগ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তা করেনি। তাছাড়া কোনও অলাভজনক সংস্থা ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) বা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের চ্যানেলে বিদেশি অর্থ নিতে পারে না। অ্যামনেস্টি সেটাই করেছে বলে অভিযোগ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। মন্ত্রকের বক্তব্য, সেই কারণে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

- Advertisement -

নয়াদিল্লির এসব অভিযোগ উড়িয়ে নিজেদের ওয়েসাবইটে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, ভারত সরকারের ক্রমাগত মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে অপদস্থ করার অপচেষ্টার এটা সাম্প্রতিকতম দৃষ্টান্ত। অপ্রমাণিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অবশ্য দাবি, তাদের হাতে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। মন্ত্রকের অভিযোগ, অলাভজনক সংস্থা হয়ে এফডিআই-এর মাধ্যমে বিদেশি অনুদান নেওয়ার অভিযোগে ২০১৭ সালে অ্যামনেস্টির ভারতে থাকা বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছিল ইডি। আদালতের দ্বারস্থ হয়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল সংস্থা। কিন্তু অ্যাকাউন্ট খোলেনি। তার ওপর সম্প্রতি মামলা দায়ের করে সিবিআই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অনুমোদন ছাড়াই ব্রিটেন থেকে আসা ১০ কোটি এবং ২৬ কোটি টাকার দুটি অনুদান গ্রহণের অভিযোগে এই মামলা এবং তার জেরে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অ্যামনেস্টির মতো বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য লড়াই করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভারত থেকে হাত গুটিয়ে নিলে আন্তর্জাতিক মহলে তার খারাপ প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।