ভারি বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে আমসত্ত্ব, চিন্তায় কারবারিরা

111

মালদা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতায় বারবারই উঠে এসেছে আমসত্ত্বের কথা। কিন্তু অনেকেরই হয়তো শোনা বা জানা নেই যে, ঠাকুরবাড়িতে সেই আমসত্ত্ব যেত মালদা জেলা থেকেই ৷ কোতোয়ালি ও সংলগ্ন এলাকা থেকে কবির জিভে সেই অপার্থিব স্বাদ পৌঁছে দিতেন তাঁর গুণাগ্রাহীরা ৷ গতবছর প্রতিকুল আবহাওয়া আর লকডাউনের সৌজন্যে আমের উৎপাদন হয়নি। ফলে আমসত্ত্বের আকাল ছিল একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই আমসত্ত্বের কারবারিরা তাকিয়ে ছিলেন এবছরের দিকে। আমের ফলন ভালো হলেও ইয়াসের প্রভাবে ভারি বৃষ্টি সবকিছু উলোটপালোট করে দিয়েছে। প্রচুর কাঁচা আম বাড়িতেই পচে নষ্ট হচ্ছে। রোদের অভাবে নষ্ট হয়েছে তৈরি করা আমসত্ত্বও। আর্থিক ক্ষতির মুখে কারবারিরা।

মালদা জেলার মধ্যে শুধুমাত্র ইংরেজবাজার ব্লকের কোতোয়ালি, আরাপুর ও সদানন্দপুর এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আমসত্ত্ব তৈরি হয়৷ শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশেই এই আমসত্ত্বের চাহিদা রয়েছে ৷ এই তিনটি গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই তৈরি হয় আমসত্ত্ব। বিশেষ করে বাড়ির মহিলারাই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। শুধুই ব্যক্তিগত নয়, এই এলাকার অনেক মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীও আমসত্ত্ব তৈরি করে ৷ জৈষ্ঠ্য মাস থেকে মালদা জেলায় আমের মরশুম শুরু হয়। গোপালভোগ প্রজাতির আমই প্রথমে পরিপক্ক হয় ৷ এই আম অন্যত্র বোম্বাই আম নামেও পরিচিত ৷ এই আম থেকেই তৈরি হয় সবচেয়ে ভালো প্রজাতির আমসত্ত্ব ৷ ল্যাংড়া, হিমসাগর কিংবা ফজলি আম থেকে আমসত্ত্ব তৈরি হলেও তার মান গোপালভোগের আমসত্ত্বের মতো হয় না। তবে, এবছরও আমসত্ত্বের ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কারবারিরা।

- Advertisement -