নমাজ শেষে শ্যামা, নিদয়া কালীর পুজো

বিপ্লব হালদার, তপন : নমাজ পড়ে মাজারে শিরনি দেওয়ার পর দীপাবলির অমাবস্যায় শুরু হয় শ্যামা ও নিদয়া কালীর পুজো। যুগ যুগ ধরে এভাবেই সম্প্রীতির নজির গড়ে পুজো হয়ে আসছে তপন ব্লকের মনোহলি গ্রামে। কথিত আছে, কালাপাহাড় নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন দেবদেবীর মন্দিরে ধ্বংসলীলা চালাত। তবে কালাপাহাড়ের ধ্বংসলীলার কোনোরকম প্রভাব যাতে মনোহলি গ্রামের মানুষদের ওপর না পড়ে, সেদিকে নজর দিতেই শ্যামাপুজোর দিনে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ে মানুষজন একসঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছিলেন।

তখন থেকেই শুরু হয় মুসলিমদের মাজারে নমাজের পর শিরনি দেওয়া। আর তা শেষ হলে শুরু হয় হিন্দুদের কালীপুজো। সেই নিয়মই আজও রয়ে গিয়েছে। মনোহলি গ্রামের শ্যামা ও নিদয়া কালী মন্দিরের পাশেই মাদার মাজার রয়েছে। সেই মাজার চত্বরে রয়েছে শ্যামা ও নিদয়া কালী মন্দিরটি। এখানে শ্যামা ও নিদয়া কালী দুই বোন। বড়ো শ্যামা ও ছোটো নিদয়া। তাদের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা মন্দির। পুজোয় পাঁঠাবলিও হয়ে থাকে। ভক্তরা মানত হিসাবে দেন পায়রা। সারারাত পুজো হওয়ার পর প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।

- Advertisement -

মনোহলি গ্রামের বাসিন্দা রমেশচন্দ্র দাস বলেন, বাপ ঠাকুরদার মুখে শুনেছি কালাপাহাড় যখন ধ্বংস চালিয়েছিল, সেসময় গ্রামের হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ে মানুষজন একসঙ্গে নিজের নিজের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছিলেন। তাই দীপাবলির কালীপুজোর দিন মুসলিম সম্প্রদায়ে মানুষও নমাজ পড়ে শিরনি দিয়ে থাকেন। তারপর শুরু হয় আমাদের পুজো। মনোহলি গ্রামের মাদার মাজারের সেবাইত মৌলানা ইয়ারুল মিয়াঁ বলেন, কালীপুজোর রাতে মনোহলির মাদার পিরের মাজারে আমরা নমাজ পড়ে শিরনি দিই। তারপর হিন্দু সম্প্রদায়ে মানুষরা কালীপুজো করেন। আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও তাঁরা সহযোগিতা করেন।