মানবিকতার নজির! ২৫ বছর ধরে পথ কুকুর ও বিড়ালদের দায়িত্ব পালনে বীথিকাদেবী

268

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: বীথিকা দাস। বয়স ৫২ এর কাছাকাছি হবে। বাড়ি রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিন অঞ্চলের চাপদুয়ার গ্রামে। বাড়িতে দুই ভাই ও মা রয়েছেন। পরিবারের আয় বলতে নিজেদের সামান্য জমিতে সারাবছর চাষবাস করে যে ফসল হয় তা দিয়ে কোনো মতে চলে। এছাড়াও বাড়িতে রয়েছে হাঁস, মুরগি ও গোরু। অবিবাহিত বীথিকাদেবীকে গোটা পরিবারকে দেখতে হয়। তবে পরিবারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি দীর্ঘ ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে পথ কুকুর ও বিড়ালের যত্ন, চিকিৎসা ও তিনবেলা খাওয়ানোর  দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। পরিবারের স্বল্প রোজগার হওয়া সত্বেও প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০টি পথ কুকুর, ১৫টি বিড়ালের মুখে তিনবেলা রান্না করা খাবার তুলে দেন বীথিকাদেবী।

রায়গঞ্জ কলেজ থেকে বি এ পাস করার পর অন্য কোনো দিকে না তাকিয়ে জীবসেবার দিকে ধ্যান দেন বীথিকাদেবী। করোনার জেরে লকডাউন চলার সময় পথ কুকুর ও বিড়ালরা খাবার না পেয়ে যখন অনাহারের মধ্যে ছিল সেইসময় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে খাবার দিয়েছেন বীথিকাদেবী, তবে তাঁর দুই ভাই বিলাস ও পলাশ তাকে সাহায্য করেছেন। বৃদ্ধা মা বীনাদেবীও মেয়ের এই কাজকে সবসময় উৎসাহ দেন।

- Advertisement -

এদিন সকালে বীথিকাদেবীর বাড়ি ঢুকতেই দেখা গেল প্রায় ৮ থেকে ১০ টি পথকুকুর ও বিড়াল ভিড় করেছে। বীথিকাদেবী একে একে নাম ধরে ডাকতেই ভিড় বাড়তে শুরু করে। সকালের রান্না শেষ হয়েছে। উঠোনে তাদের খাবার ভাগ করে দিবেন। ইতিমধ্যে থালাও পড়ে গিয়েছে।  সকালে  মাছের তেলের সঙ্গে ভাত মিশিয়ে দেওয়া হয়। দুপুরে এবং রাতের জন্য আলাদা আইটেম রয়েছে।

বীথিকাদেবী বলেন, ‘এরা আমার পরিবারের সদস্য। এরা না খেলে কোনোদিনই খাই না। এমনকি অনুষ্ঠান বাড়ি গেলে ওদের জন্য ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট অংশ নিয়ে আসি। ২৫ বছর  ধরে এদের যত্ন করছি। শরীর যতদিন টানবে ততদিন করে এদের পাশে থাকব।‘ তিনি বলেন, ‘এদের কষ্ট হবে বলেই নিজের সুখের কথা ভাবি না। তবে ভাইরা এবং মা না থাকলে এতবড় সংসার চালাতে পারতাম না। আর্থিকভাবে আমরা স্বচ্ছল নই, কিন্তু এদের জন্য কখনও কার্পণ্য করি না। জমি থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে চলে যায় আমাদের সকলের। কারো থেকে কোনো সাহায্য পাই না, আর কখনও চাই না।‘

বীথিকাদেবীর ভাই বিলাস বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর দিদি আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায়। তাই অসহায়  পশুদের পাশে দাঁড়াতে কোনো কুণ্ঠাবোধ করি না। তবে এজন্য বছরে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বাজেট ধরা আছে। জমির ফসল বিক্রি করেই সেই খরচ তুলে নিই আমরা। তবে এত কুকুর ও বিড়াল থাকায় এলাকার মানুষের কথা শুনতে হয়। বাবা মারা যাওয়ার পর দুই ভাই বিলাস ও পলাশ দুই জনই গ্রাজুয়েশজনের পর জমিতে চাষবাসের কাজ দেখাশোনা করেন এবং বাকি সময়টা দিদি বীথিকার ফাইফরমাস খাটেন।‘

অপরদিকে, রায়গঞ্জ পিপলস ফর অ্যানিম্যালসের সম্পাদক অজয় সাহা  জানান, বীথিকাদেবী নি:স্বার্থ ভাবে কাজ করছেন। উনি আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন। বছরের পর বছর অসহায় পশুদের সেবা করে যাচ্ছেন তিনি।