মানবিকতার নজির, প্রসূতিকে বাঁচাতে রক্ত দিলেন নার্স

335

আসানসোল: প্রায়শই শোনা যায়, সরকারি হাসপাতালের নার্সেরা ঠিক মতো কাজ করেন না। তাঁরা রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। কিন্তু সবাই তেমনটা নয়, কেউ কেউ এমন আছেন, যাঁরা রোগীর প্রাণ বাঁচাতে নিজের পেশাগত দায়িত্বের বাইরে গিয়েও মানবিকতার নজির রাখেন। এমনই নিদর্শন দেখা গেল শুক্রবার আসানসোল জেলা হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে। কর্তব্যরত অবস্থাতেই ওয়ার্ডে ভর্তি এক প্রসূতি আশা সিংয়ের জন্য রক্তদান করেন প্রীতিকণা চট্টোপাধ্যায়। সকালে আসানসোল জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তদান করেন ওই নার্স। ব্লাড ব্যাংকে সেইসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা হাসপাতালের নার্সিং সুপার (এন এস), সুরভী মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নার্সেরা। পরে বিকেলে সেই রক্ত রোগীকে দেওয়া হয়। দুপুরে ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীর খোঁজ নেন জেলা হাসপাতালের সুপার ডাঃ নিখিল চন্দ্র দাস।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন রেল শহর চিত্তরঞ্জনের এরিয়া ৬-র বাসিন্দা আশা সিং। ৯ মার্চ তিনি সন্তানের জন্ম দেন। আশাদেবীকে সেদিন এক ইউনিট রক্ত দেওয়া হয়। কিন্তু সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে রোগীর শরীরে রক্তক্ষরণ হওয়ায় আরও রক্তের প্রয়োজন হয়। সেই অনুযায়ী রোগীর নামে রিকুইজেশান ব্লাড ব্যাংকে যায়। কিন্তু এ পজিটিভ রক্ত ব্লাড ব্যাংকে না থাকায়, রোগীকে রক্ত দেওয়া যায়নি। আশা সিংয়ের স্বামী বাইরে কাজ করেন। এখানে তেমন পরিচিতি না থাকায় রক্ত যোগাড় করতে পারেননি তিনি। এদিন সকালে ডিউটি করতে এসে রক্ত না পাওয়ার কথা জানতে পারেন নার্স প্রীতিকণা চট্টোপাধ্যায়। তিনি সিদ্ধান্ত নেন ওই রোগীর জন্য রক্ত দান করবেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো মাত্রই প্রীতিকণাদেবীর রক্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করে ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

প্রীতিকণাদেবী বলেন, ‘আগেও রক্ত দিয়েছি। কিন্তু যখন ডিউটিতে গিয়ে জানতে পারি, কালকে চিকিৎসক লেখার পরেও রোগীকে রক্ত দেওয়া যায়নি। তখন ভাবি, আমার রক্ত তো এ পজিটিভ। আমি তো দিতেই পারি। রোগীর রক্ত দরকার। রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেলে, তবেই তো কাজের সার্থকতা।’ হাসপাতাল সুপার বলেন, ‘নার্সের এই সিদ্ধান্ত খুবই মানবদরদী। আমরা সবাই চাই রোগীর সঙ্গে আমাদের সবার একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হোক।‘