বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর

386

রায়গঞ্জ: বিজেপির যুব কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় রায়গঞ্জ থানার পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ইটাহার থানায় এফআইআর দায়ের করল মৃতের পরিবার। শুক্রবার মৃত যুবকের মা পুনরায় মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেছিলেন। শনিবার রায়গঞ্জ আদালতের বিচারক পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের জন্য উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা, ডিএসপি প্রসাদ প্রধান, পুলিশি ক্যামেরাম্যান ও ময়নাতদন্তের চিকিৎসকদের মেডিক্যাল বোর্ড। রায়গঞ্জ সিজিএম আদালতের নির্দেশে অনুপকুমার রায়ের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত আজ পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হতে চলেছে। ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফিরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে পূর্বের যে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত করেছিলেন, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সময় তাঁকে না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে৷

- Advertisement -

শনিবার সকাল থেকেই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে টানটান কৌতুহল নিয়ে ভিড় করেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। সবারই মনে প্রশ্ন, কী আসবে দ্বিতীয়বারের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে? আইনশৃঙখলা বজায় রাখতে হাসপাতাল চত্বরে পুলিশের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মত ছিল। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে র‍্যাফও মজুত রাখা হয় হাসপাতালে। বুধবার রায়গঞ্জ থানায় ইটাহারের নন্দনগ্রামের বাসিন্দা বিজেপি কর্মী অনুপকুমার রায়ের মৃত্যু হয়।

রায়গঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জানান, ডাকাতির ঘটনার তদন্তে অনুপের নাম উঠে আসে৷ জিজ্ঞাসবাদের জন্য থানায় আনা হলে আচমকা অচৈতন্য হয়ে যায় অনুপ। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় অনুপকে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এই ঘটনার পরেই ক্রমশ উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে। বিজেপি ও মৃতের পরিবারের অভিযোগ, অনুপকে পুলিশ লকআপে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রাতের অন্ধকারে ময়নাতদন্ত করে রিপোর্ট প্রভাবিত করা হয়েছে।

এরপর থেকেই মৃতদেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি তোলে মৃতের পরিবারের। বিজেপির পক্ষ থেকেও একই দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি রায়গঞ্জ থানার ৫ জন পুলিশ আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগও জানান মৃতের মা গীতা রায়। এরপরেই পরিবারের দাবিকে মান্যতা দিয়ে আদালত এদিন দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়৷

এদিন ফের রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে একজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে হয়। সেখানে মৃতদেহ ভিডিওগ্রাফি করা হয়। দেখা গিয়েছে যে মৃতদেহের শরীরে একাধিক আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলিতে ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের লোকেদের দাবি, কেউ পরিকল্পিতভাবে ওই বিজেপি কর্মীকে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ময়নাতদন্তের দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এটি খুনের ঘটনা। তবে কেন এই খুন? সেই নিয়েই জল্পনা বিভিন্ন মহলে। গেরুয়া শিবিরের নেতারা দাবি করেছেন, হেমতাবাদের বিধায়ককে যে কায়দায় খুন করা হয়েছে একই কায়দায় আমাদের দলের কর্মীকেও খুন করেছে শাসকদলের আশ্রিত কোনও প্রভাবশালী নেতা।

বিজেপির রাজ্যনেতা প্রদীপ সরকার বলেন, আমরা ডেড বডি দেখেছি। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি করা হয়েছে। সেগুলি বের করে সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। একটা বুকে, একটা মাথায়, একটা ডান হাতে, পশ্চাৎদেশের দুই জায়গায় এবং পায়ে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কালশিটে দাগ রয়েছে দেখে মনে হচ্ছে ভারী কোনও বস্তু দিয়ে তাঁকে মারা হয়েছে।

বিজেপির জেলা নেতা তথা রায়গঞ্জ আদালতের আইনজীবী গোপাল মজুমদার বলেন, বিজেপি কর্মীর মৃতদেহের ময়নাতদন্তে হয়েছিল রাতের অন্ধকারে। সেই খবর না জানার জন্য মৃতের মা পুনরায় পোস্টমর্টেমের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতে আজকে মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে পুনরায় ময়নাতদন্ত হল। মৃতের মা পাঁচজন পুলিশ অফিসারকে দায়ী করে ইটাহার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ৩০২/৩৬৩/৩৪ আইপিসি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর তা পরিবার, বিজেপি কর্মী ও নেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।