মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন হলেন জলপাইগুড়ির অ্যানি

6726

বালুরঘাট ও জলপাইগুড়িঃ এ য়েন উত্তরবঙ্গের মেয়ের স্বপ্নপূরণের কাহিনি। দেশব্যাপী সুন্দরী প্রতিযোগিতায় বিচারকদের চোখ ধাঁধিয়ে খেতাব জিতলেন অ্যানি দত্ত। বালুরঘাটের বাসিন্দা তথা জলপাইগুড়ির বউমা অ্যানি এখন ভারতসেরা সুন্দরী। তাঁর লক্ষ্য এবার আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা দেওয়া। যাঁরা অ্যানিকে চেনেন, তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবশ্য একটু ভ্রু কুঁচকাবে। কারণ, অ্যানি প্রথাগত সুন্দরী রমণী নন। তাছাড়া য়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মূল পর্বে তিনি পৌঁছে গিয়ে সেরার শিরোপা জিতে নিলেন, সেটিও ঠিক প্রথাগত সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়। আসলে তৃতীয় লিঙ্গের সুন্দরী প্রতিযোগিতায় সেরা হয়েছেন অ্যানি দত্ত। অ্যানির এখন লক্ষ্য আরও বড়ো। অ্যানি চান নিজেকে বিশ্বের দরবারে মেলে ধরতে।

অ্যানি নাকি অনীক? দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের চকভৃগু এলাকার বাসিন্দা অনীক দত্ত পুরুষ হয়ে জন্মালেও মন থেকে ছিলেন নারী। সমাজের বাধা কাটিয়ে চিকিত্সার মাধ্যমে হয়ে অনীক উঠেছেন অ্যানি। পেশায় তপনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা। তবে বালুরঘাটে মডেল হিসেবেই বেশি খ্যাতি রয়েছে তাঁর। নাচের দলও রয়েছে তাঁর। ধুমধাম করে বিয়ে করেছেন জলপাইগুড়ির নয়াবস্তির বাসিন্দা  সাাগ্নিক চক্রবর্তীকে। ২০১৬ সালে সাগ্নিকের সঙ্গে কলকাতাতেই আলাপ হয়েছিল অ্যানির। সাগ্নিকও স্কুল শিক্ষক। দুই বছরের প্রেমপর্বের পর বিয়ে করেন দুজনে। ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের ওই বিয়ে পর  থেকে সংসার, স্কুল নিয়ে সময় কেটে গিয়েছে অ্যানির। বিয়ের আগে চুটিয়ে মডেলিং করলেও  বিয়ের পর ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর তেমন সময় হয়ে ওঠেনি অ্যানির। অবশেষে  দিল্লি থেকে এলিনা প্রেজেন্টস মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া-২০১৯ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাজিমাত। জিতে গেলেন সেরা সুন্দরীর খেতাব। জাতীয়স্তরের পর এবার আন্তর্জাতিকস্তরে সাফল্য আসুক অ্যানির, চাইছেন সকলেই।

অ্যানি বলেন, ‘বিয়ে আগেও মডেলিং করতাম। কিন্তু সংসারে মন দেওয়ার জন্য ছয় মাস মডেলিং থেকে দূরে ছিলাম। শেষে স্বামীর উত্সাহেই ফের মডেলিং শুরু করি। মিস ট্রান্স ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান পাওযায় আমি খুব খুশি। সবাই আশীর্বাদ করুন, যাতে আমি আরও এগিয়ে য়েতে পারি। ন্যাশনাল লেভেলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আন্তর্জাতিকস্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’  ট্রান্স ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছিলেন। শনিবার অ্যানি পেঁছে যান শেষ বারোয়। রবিবার ছিল ফাইনাল। তাতে শেষমেশ সেরা সুন্দরীর মুকুট ওঠে অ্যানির মাথাতেই। অ্যানির বাবার বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির সকল সদস্যই তাঁকে সমর্থন করেছেন এই প্রতিযোগিতায় জেতার ব্যাপারে। সকল শুভানুধ্যায়ীর শুভকামনার ফলেই মিলেছে এই সাফল্য, দৃঢ়বিশ্বাস অ্যানির।