রক্তশূন্য ব্লাড ব্যাংক, সংকটে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে সাধারণ

69

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: চরম রক্ত সংকট তৈরি হয়েছে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। ব্ল্যাড ব্যাংক আজ একেবারে রক্তশূন্য। রক্তের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে রোগীর আত্মীয় পরিজনেরা। নির্বাচনি বিধি লাগু থাকায় ফ্ল্যাগ ও ফেস্টুন ব্যবহার করে রক্তদান শিবির করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় সেভাবে আগ্রহী হচ্ছে না রাজনৈতিক দলগুলি। অন্যদিকে কোভিড ভ্যাক্সিন  নেওয়ায় অনেকে রক্তদান করতে পারছেন না। ফলে চরম রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে ব্ল্যাড ব্যাংকে।

এদিকে রক্তদানে এগ্রিয়ে আসার জন্য আজ থেকে গ্রামেগঞ্জে প্রচার কর্মসূচি নিয়েছে রায়গঞ্জ ব্ল্যাড ডোনার্স ফোরাম সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। রায়গঞ্জ, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ ও ইটাহারের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তাঁরা রক্তদান করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় জানান, রায়গঞ্জ ব্ল্যাড ব্যাংকে রক্তশূন্য চলছে। অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু সেভাবে শিবির করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে বলা হয়েছে, তাঁরাও চেষ্টা করছে। অতিরিক্ত জেলাশাসককে বলা হয়েছে, মিটিং ও রেজ্যুলেশন সবই হয়েছে এমন নয় যে উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। মাঝখানে দুই একটি শিবির করে রক্ত পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু সেগুলি শেষ হয়ে গিয়েছে। আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিন রতন মণ্ডল বলে এক রোগীর আত্মীয় জানান,কার্ড আছে। ব্ল্যাড ব্যাংকে রক্ত না থাকায় কার্ড দেখিয়ে রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। এখন কোথায় যাওয়া উচিত বুঝে ওঠা দায় হয়ে পড়েছে। একটু বেলা হতেই রক্তের জন্য লাইন পড়ে যায়। ভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি এতটাই ব্যস্ত যে তাঁরা শিবির করার জন্য আগ্রহী হচ্ছেন না।

ব্ল্যাড ব্যাংকের কর্মী সায়ন ভৌমিক জানান, ব্ল্যাড ব্যাংক একেবারে রক্তশূন্য। কোনো গ্রুপের রক্ত নেই। নির্বাচনি বিধি লাগু থাকায় রাজনৈতিক দলগুলি ক্যাম্প করতে পারছে না। কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্যাম্প করছে, কিন্তু তাদের সংগৃহীত রক্তের পরিমান খুবই কম। প্রতিদিন ৭০ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সমস্যায় পড়েছেন থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা।

রায়গঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি প্রিয়ঙ্কর রায় এদিন একপ্রকার ক্ষোভের সুরে জানান, মাইকিং ও লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। কিন্তু সেভাবে কেউই এগিয়ে আসছে না। যখন রক্ত লাগে তখন মানুষ রক্তের দাম বুঝতে পারে। নেওয়ার সময় সবাই যায়, তবে দেওয়ার বেলায় কেউ নেই। নিজে থেকে এসে কেউ রক্ত দেন না। রক্ত আসবে কোথা থেকে। এটা তো আর কিনতে পাওয়া যায় না। তাঁরা  আবেদন করেছে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ব্ল্যাড ব্যাংকে এসে সাধারণ মানুষ যেন রক্তদান করেন। একটা আপাত সংকট তৈরি হয়েছে। তাই সকলেই রক্তদানে এগিয়ে আসুক এবং হাসপাতালে এসে রক্তদান করুক এই আবেদন করেছেন।