গৌড় লিংক এক্সপ্রেস বাতিলের নোটিশে ক্ষোভ

সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : মালদা থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত চলাচল করা গৌড় লিংক এক্সপ্রেসটি বাতিল করা নিয়ে রেল দপ্তরের নির্দেশিকার জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে দক্ষিণ দিনাজপুর। গত ৭ অগাস্ট রেল দপ্তরের এক নির্দেশিকাতে দেশের বেশ কিছু ট্রেনকে বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭ কোচের গৌড় লিংক এক্সপ্রেসটিও। আর এই বাতিলের নির্দেশিকাকে ঘিরেই আরও একবার লড়াইয়ে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর। শুধু গৌড় লিংক এক্সপ্রেস চালু রাখাই নয়, মালদা থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত বিদ্যুদয়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতেও এবারে আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে। কারণ, রেলের এই নির্দেশিকার পেছনে বালুরঘাট পর্যন্ত বিদ্যুদয়নের কাজ না হওয়ার যুক্তি রয়েছে রেল বোর্ডের। এই ঘটনায় হতবাক দক্ষিণ দিনাজপুরের রেল উন্নয়ন কমিটিগুলিও। করোনা আবহেও তাই আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে বৈঠক ডেকেছেন রেল উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা।

সকালে তেভাগা এক্সপ্রেস, বিকেলে গৌড় লিংক এক্সপ্রেসই কলকাতার সঙ্গে বালুরঘাটের যোগাযোগের মাধ্যম। এই ট্রেনগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি করলেও, এই ট্রেনগুলির সময়সূচির পরিবর্তন চায় না বালুরঘাট। তবে এর আগে সপ্তাহে দুদিন চলাচল করা হাওড়া এক্সপ্রেসকে দৈনিক করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানাচ্ছিল বালুরঘাট। ওই ট্রেনটি সপ্তাহে পাঁচদিন করে দেওয়া হলেও, তার বাস্তবায়ন কিন্তু সেভাবে নজরে আসেনি। এরই মধ্যে বালুরঘাট থেকে গৌড় লিংক এক্সপ্রেসটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক। গৌড় লিংক এক্সপ্রেস বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হলেও, শিয়ালদা থেকে মালদা টাউন স্টেশন পর্যন্ত গৌড় এক্সপ্রেস চালু থাকছে। জানা গিয়েছে, গৌড় এক্সপ্রেস অত্যাধুনিক মানের ২২ বগি যুক্ত হওয়ার কারণে সেটিকে আগের মতো ভাগ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি এটি বিদ্যুতের সাহায্যে চলাচল করবে। কিন্তু মালদা থেকে বালুরঘাট পর‌্যন্ত বিদ্যুদয়নের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এই কারণেই বালুরঘাট পর্যন্ত গৌড় লিংক এক্সপ্রেসটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

- Advertisement -

গৌড় লিংক এক্সপ্রেসের মতো জেলার আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ট্রেনকে বাতিল করে দেওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে দক্ষিণ দিনাজপুর। এর আগেও বেশ কয়েকবার এই ট্রেন বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে বলে এবারে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। বারবার বালুরঘাটের সঙ্গেই কেন রেল বঞ্চনা করা হয়, এই প্রশ্নেই ক্ষুব্ধ বালুরঘাট। বালুরঘাট-একলাখি রেল উন্নয়ন কমিটির তরফে এই নিয়ে আন্দোলনে নামার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কমিটির সম্পাদক পীযূষকান্তি দেব বলেন, ফের একবার ভযংকর ষড়য়ন্ত্র করছে রেল। জেলাকে বঞ্চনা করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যুতের কাজ না করে বালুরঘাট থেকে গৌড় লিংক এক্সপ্রেস বাতিলের ব্যাপারে রেল বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা সরাসরি আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হচ্ছি। জেলাজুড়ে এই আন্দোলন শুরু হবে। রেলযাত্রী ও সমাজকল্যাণ কমিটির নেতা স্মৃতিস্মর রায় বলেন, বিদ্যুদয়নের জন্য বছর দুয়ের আগেই টাকা বরাদ্দ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কোনও অজানা কারণে মালদা থেকে বালুরঘাট পর্যন্ত মাত্র ৮৭ কিলোমিটার রেলপথে সেই কাজ আজও শেষ হয়নি। রেল দপ্তরের এই গাফিলতির জেরেই আজ বালুরঘাট গৌড় লিংক এক্সপ্রেস থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা রেল দপ্তরের বিরুদ্ধে সমস্ত স্টেশন অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেব।

বামপন্থী শিক্ষক অলিন্দ চক্রবর্তী বলেন, রেল দপ্তরের ক্ষেত্রে বালুরঘাট গৌড় লিংক এক্সপ্রেস যথেষ্ট লাভদায়ক। এই অবস্থায় বিকল্প কোনও ট্রেন না দিয়ে হঠাৎ করে গৌড় লিংক এক্সপ্রেস তুলে দিলে জেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই জেলা দীর্ঘদিন রেলের ক্ষেত্রে বঞ্চিত ছিল। যতটুকু প্রাপ্তি হয়েছিল, সেটুকুও যদি ছিনিয়ে নেয় তাহলে তা বঞ্চনার। তাই এখনই এই বিষয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, গৌড় লিংক এক্সপ্রেস বন্ধ হওয়ার নোটিশটি রেল দপ্তর দুমাস আগে জারি করেছে। দেশজুড়ে এভাবে বেশকিছু লিংক এক্সপ্রেস বাতিল করা হচ্ছে। কিছু টেকনিক্যাল কারণে রেল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমি রেল দপ্তরের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, এই মুহূর্তে এটা করা হবে না। অন্য কোনও সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। সাংসদ বলেন, আর তা না হলে আমরা আন্দোলনে নামব। এমনকি বালুরঘাট থেকে শিয়ালদা পর্যন্ত ট্রেনের দাবিও জানাব।