ধুবড়ির বিমানবন্দর নিয়ে ক্ষোভ কোচবিহারে

কোচবিহার : অসমের ধুবড়ি জেলার রূপসিতে তৈরি হয়েছে বিমানবন্দর। ওই বিমানবন্দর আগামী বছর চালু হচ্ছে। কিন্তু কোচবিহার বিমানবন্দর চালু না হওয়ায় ক্ষোভ জন্মেছে বিভিন্ন মহলে। বিমানবন্দর চালু না হওয়ায় তৃণমূল-বিজেপির চাপানউতোর চলছে।

১৯৯৫ সালে কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর কয়েক মাসের মধ্যে বিমান পরিষেবা চালু করে। কিন্তু দিনসাতেক অনিয়মিতভাবে চালুর পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বেশ কয়েকবার কোচবিহার থেকে কলকাতা বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই কয়েকদিন চালুর পরই তা বন্ধ হয়ে যায়। শেষবারের মতো ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে পরিষেবা চালু হয়। মাসখানেক অনিয়মিতভাবে চলার পর ফেব্রুয়ারি মাসে তা বন্ধ হয়ে যায়।

- Advertisement -

এরপর কোচবিহার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়। ওই কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বিমানবন্দর সংলগ্ন মরা তোর্ষা নদীর উপর ফ্লাইওভার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ওই ফ্লাইওভার লম্বায় ৫০ মিটার ও চওড়ায় ১৫০ মিটার হওয়ার কথা। কোচবিহার বিমানবন্দরের রানওয়ে বর্তমানে ১,০৬৯ মিটার রয়েছে। বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে বিমানবন্দরের রানওয়ে দৈর্ঘ্য ৪৫০ মিটার বৃদ্ধি পাবে।

বিমানবন্দর চালু না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কোচবিহারবাসী। কোচবিহারের বাসিন্দা রতন বর্মন বলেন, আমাদের বিমান ধরতে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দূরে বাগডোগরা বিমানবন্দরে যেতে হয়। কোচবিহার বিমানবন্দর কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতে অনেকদিন ধরে বন্ধ। অসমের রূপসি বিমানবন্দর চালু হলে কোচবিহার থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টায় ওই বিমানবন্দরে পৌঁছে যাওয়া যাবে। সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। শিল্পপতি ভোলা বণিক বলেন, বাগডোগরা, গুয়াহাটির আগে কোচবিহার থেকে নিয়মিত বিমান চলাচল করত। অথচ কোচবিহার বিমানবন্দরের পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও বিমান চালু হচ্ছে না। অসমের রূপসি বিমানবন্দর চালু হচ্ছে। কিন্তু কেন এখানে বিমান চালু করা হচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না।

কোচবিহার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নারায়ণচন্দ্র মোদক বলেন, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি কোচবিহারে বিমান পরিষেবা চালু হোক। বন্ধ থাকা বিমানবন্দর যদি অসম সরকার চালু করতে পারে তবে কোচবিহার বিমানবন্দর কেন চালু করা সম্ভব হবে না। ধুবড়ির বাসিন্দা শিবশংকর কুণ্ডু বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর পর রূপসি বিমানবন্দর চালু হতে চলেছে। এর জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক বলেন, অসম সরকার ধুবড়ি বিমানবন্দরে খুব শীঘ্রই বিমান চালানো শুরু করবে। অথচ কোচবিহার বিমানবন্দরে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা এর আগে বিমান চালানোর চেষ্টা করেছিলাম। রাজ্য সরকার বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তুলে নিয়েছিল। তবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের অভিযোগ, কেন্দ্রই কোচবিহার থেকে বিমান চালাচ্ছে না।